1. admin@bangladeshshomachar.com : admin :
  2. mahadiislam.datasource@gmail.com : Mahadi Islam : Mahadi Islam
মঙ্গলবার, ১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মাঝারি ও ছোটরা এখনো দুর্দিনে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই পীরগঞ্জে হামলা -তথ্যমন্ত্রী ইতিহাসের বর্বরতম হত্যাকান্ড ১৫ আগস্টঃ বিভাগীয় কমিশনার গুজব রটানো ও বিশৃঙ্খলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবেঃসিএমপি ফটিকছড়ি- গ্রুপিং যখন তুঙ্গে, দৃষ্টান্ত ধর্মপুরে চট্টগ্রামে শেখ রাসেল দিবস উদযাপন ‘বিরোধী দল চাই, রাষ্ট্রবিরোধী দল চাই না’- স্থানীয় সরকার মন্ত্রী চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কার্যালয়ে শেখ রাসেল দিবস পালন দেওয়ানগঞ্জ সদর ইউনিয়নে আ.লীগ দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী মালেকুজ্জামান মালেক শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের সারাদিনের কর্মসূচী নিত্য পণ্যের অবাধ সরবরাহ ও মূল্য স্থিতিশীল রাখতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কমিটির মতবিনিময় সভা

ইয়াবা পাচারের রূট ও কৌশল পাল্টাছে ইয়াবা পাচারকারীরা!

কমল চক্রবর্তী
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ১ অক্টোবর, ২০২১
  • ৭২ জন দেখেছেন
কমল চক্রবর্তীঃ
সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় আটক হচ্ছে ইয়াবার বিশাল সব চালান। সেই সাথে ধরা পরছে ইয়াবা পাচারকারী। ফলে ইয়াবা পাচারকারীরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিতে ইয়াবা পাচারের রূট ও কৌশল পাল্টাছে । মাছ ধরার ট্রলার ও পণ্যবাহী ট্রাক, মাইক্রোবাস ,যাত্রীবাহী বাস, কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বিভিন্ন কৌশলে হাতবদল পদ্ধতিতে চলছে ইয়াবা পাচার। ধরা পরছে কেবল কমিশনের ভিত্তিতে বহন করা ইয়াবার বাহকরা । মুলহোতারা থেকে যাচ্ছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে। ফলে কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না ইয়াবার পাচার ও ইয়াবা বা মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ইয়াবা ও আইস/ ক্রিস্টাল মেথ তুয়াঙ্গী-ইয়াঙ্গুন হয়ে নৌপথে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশের মহেশখালী আসছে এবং একই রুট ব্যবহার করে চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ও বরিশাল উপকূলীয় এলাকায় যায় ইয়াবার চালান। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যবহার হচ্ছে ফিসিং বোর্ড । সাম্প্রতিক কালে টেকনাফ হতে সাগর পথ ব্যবহার না করে মায়ানমার থেকে সীমান্তবর্তী জেলা বান্দরবানের আলী কদম এবং লামার দূর্গম পাহাড়ী পথ ব্যবহার করে চকরিয়া, চট্টগ্রাম হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ইয়াবা পাচার করে আসছে।  আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দেওয়ার জন্য তারা টেকনাফের সাগর পথ ব্যবহার না করে বান্দরবান পাবর্ত্য জেলার পাহাড়ী পথ ব্যবহার করে মায়ানমার হতে ইয়াবা ট্যাবলেটের বড় বড় চালান বাংলাদেশে আসছে।

 

ইয়াবার অপর রুট হচ্ছে মান্দালে-তুয়াঙ্গী-মাগওয়ে-মিনবু-পাদান-সিত্তেই-মংডু হয়ে টেকনাফ। এছাড়াও বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের পয়েন্ট দিয়ে আসছে ইয়াবা। ছোট ওই সীমান্ত দিয়ে রোহিঙ্গা শিশু ও নারী দিয়েই ইয়াবা পাচার হচ্ছে। টেকনাফ-উখিয়ার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে দেশে প্রবেশ করছে ইয়াবার বড় বড় চালান। এরমধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম, গর্জনবুনিয়া, সেন্টমার্টিন, শাহপরীর দ্বীপ, লেদা, বাহারছড়া, শাপলাপুর, ডেইলপাড়া, বালুখালী, দিয়ে ইয়াবার পাচার হচ্ছে। তবে ইয়াবার রুট হিসেবে এখনও নাফ নদী ব্যবহার হচ্ছে বেশি। এ ছাড়া লোহাগাড়া, সাতকানিয়ার পাশাপাশি দোহাজারী ব্রিজের দুপাশে গড়ে ওঠা বার্মা কলোনি এখনকার ইয়াবা পাচারের ট্রানজিট পয়েন্ট হিসাবে পরিচিত। আনোয়ারা বিচ দিয়েও নগরীতে ঢুকছে ইয়াবার চালান।
 

চট্টগ্রাম নগরীতে স্থলপথে অন্যতম নিরাপদ রুট ফিশারিঘাট সংলগ্ন মেরিনার্স সড়ক, বাকলিয়া এলাকার শাহ আমানত সেতু সংযোগ সড়ক এবং সদরঘাট এলাকা। পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা নিয়মিতই এসব রুটে অভিযান চালিয়ে বহনকারীসহ ইয়াবা জব্দ করে। একটি রুটে বা পয়েন্টে অভিযান চালালে ইয়াবা পাচারারীরা দ্রুত অন্য পয়েন্ট ব্যবহার করে। পাল্টায় ইয়াবা পাচারের কৌশল। ফলে একদিকে কমানো যাচ্ছে ইয়াবার প্রবেশ।

এদিকে নগরীর বরিশাল কলোনি, চট্টগ্রাম স্টেশন, কদমতলী বাস টার্মিনাল, মতিঝরনা, এনায়েতবাজার গোয়ালপাড়া, বায়েজিদ শের শাহ কলোনি, অক্সিজেন মোড়, ফিরোজ শাহ কলোনি, অলংকার মোড়, পাহাড়তলী, টাইগারপাস, বাটালি হিল মাদকের সবচেয়ে বড় বাজার। মিনি টেকনাফ হিসেবে পরিচিত পাঠানটুলি ইসলাম সওদার গলি এলাকায় চলে ইয়াবার পাইকারী ও খুচরা কারবার। টেকনাফ থেকে সরাসরি এনে পাইকারী ও খুচরা বিক্রি হয় ইয়াবা।

নগরীতে মাদকের অন্যতম হট স্পটঃ সুপারিয়ালা পাড়া, এনায়েত বাজার, বাংলাবাজার, বাস্তুহারা কলোনী, মইজ্জার টেক, মিয়াখান নগর, বউ বাজার, মাস্টার পুল, বগার বিল, সুগন্ধা আবাসিক, চাক্তাই, ব্রিজঘাটা, বেপারী পাড়া, ধনিয়ালা পাড়া,নগরের মুরাদপুর, ব্বহদ্দার হাট ফ্লাইওভারের নীচে নতুন ব্রিজ সংযোগের দিকে, চট্টগ্রাম রেলস্টেশন, বরিশাল কলোনি, কাপ্তাই রাস্তার মাথা, লীচু বাগান, অক্সিজেন বাস স্ট্যান্ড, টাইগার পাস বস্তি, পলোগ্রাউন্ড এর আছে পাশের বস্তি, সাগরিকা।
বায়েজিদ থানার শেরশাহ ও বায়েজিদ থানার আরেফিন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থান ঘিরে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর বসে মাদকের হাট।ডবলমুরিং থানা এলাকার জোড় ডেবার পাড়ে মাদকের হটস্পট ,আগ্রাবাদ পানওয়ালা পাড়া, নগরীর পাঠানটুলির ইসলাম সওদাগর গলি ও দামুয়া পুকুরপাড়।

ইয়াবার বাহক ও পরিবহনে এসেছে পরিবর্তন । মহিলা ও বিভিন্ন যাত্রীদের ব্যবহার করছে ইয়াবা বহনে। বিভিন্ন স্টিকার যুক্ত ব্যক্তিগত গাড়িতে করেও ইয়াবা পাচার হচ্ছে। কিন্তু এসব গাড়ীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নানা কারনে তল্লাশি চালায় না, ফলে নিরাপদে ইয়াবা পাচার করে থাকে। এছাড়া নিত্যনতুন কৌশলে ট্রাক, কার্ভাডভ্যান, ইমাম, শিশু, রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স এমনকি পাচারকারীরা পেটে পায়ুপথেও বহন করে গন্তব্য পৌঁছে দিচ্ছে ইয়াবার চালান।

বর্তমানে বিপুল পরিমাণ ফিশিং বোট এই কারবারে জড়িত। গত কয়েকদিনে টেকনাফ ও কক্সবাজার এলাকায় ইয়াবার বিশাল চালানসহ আটক হয়েছে ফিসিং ট্রলার। বিশেষ করে আনোয়ারা, বাঁশখালী এবং মহেশখালীর এসব ট্রলার কক্সবাজার থেকে ইয়াবা বহন করে নগরীর ফিসারীঘাট, ব্রীজঘাট, মাঝিরঘাট ও ১৫ নম্বর ঘাটে । ইয়াবার বহনকারীরা জানে না মালিক কে। বিভিন্ন হাত বদল হয়ে কমিশনের ভিত্তিতে এসব ইয়াবা পৌঁছে দেয় নগরী পর্যন্ত।

 

সাম্প্রতিক সময়ে আটক ইয়াবার বিশাল চালান আটকঃ
২৪ সেপ্টেম্বর শুক্রবার কক্সবাজারের গভীর সমুদ্র এলাকা থেকে আনুমানিক ২১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা মূল্যের ৪,৩০,০০০((চার লক্ষ ত্রিশ হাজার) পিস ইয়াবাসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১৫, কক্সবাজার।এ সময় পাচার কাজে ব্যবহৃত ট্রলারটি জব্দ করা হয়।
২৬ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার জেলার উখিয়া থানাধীন পালংখালী এলাকায় র্যাব-১৫ এর এক অভিযানে ৩,০০,০০০(তিন লক্ষ) পিস ইয়াবাসহ ২ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে ।

২৮ সেপ্টেম্বর কক্সবাজার হতে সাগর পথে ফিশিং বোটে করে খালাসের জন্য চট্টগ্রাম মহানগরীর পতেঙ্গা এলাকায় দিকে আসছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে র‌্যাব-৭ এর একটি চৌকস আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে সন্দেহজনক গতিবিধির একটি ফিশিং বোটে তল্লাশি চালিয়ে ১৪ জনকে আটক করে। পরে বোটের ভিতর ৩ টি ট্রাভেল ব্যাগে তল্লাশি করে ৩,৯৬,০০০ (তিন লক্ষ ছিয়ানব্বই হাজার) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া সর্বশেষ ১ অক্টোবর শুক্রবার ভোর ৫টায় বান্দরবান পার্বত্য জেলার আলীকদম থানা এলাকা থেকে আনুমানিক ১৫ কোটি টাকা মূল্যের ৪, ৯৫,০০০( চার লক্ষ পঁচানব্বই হাজার) পিস ইয়াবাসহ ২ জন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করেছে র‌্যাব-৭।  এছাড়া কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে তিন কোটি টাকা মূল্যের ৩ কেজি ভয়ঙ্কর মাদকদ্রব্য আইস/ক্রিস্টাল মেথ সহ ১ জন রোহিঙ্গা মাদক কারবারীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-১৫।

বিএস/কেসিবি/সিটিজি/১০ঃ০৭পিএম

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ

সহযোগী প্রতিষ্ঠান

© All rights reserved © 2021 The Daily Bangladesh Shomachar
প্রযুক্তি সহায়তায় একাতন্ময় হোস্ট বিডি