1. admin@bangladeshshomachar.com : admin :
  2. mahadiislam.datasource@gmail.com : Mahadi Islam : Mahadi Islam
বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৪৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মাঝারি ও ছোটরা এখনো দুর্দিনে পেশাদার চোর চক্রের সদস্য নুরুন্নবী আটক;চোখের পলকে সিএনজি চুরিই তার পেশা সমন্বিত প্রচেষ্টায় অল্পসময়ের মধ্যেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসবে-এলজিআরডি মন্ত্রী রোহিঙ্গা সঙ্কট প্রশ্নে প্রধান আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর নিষ্ক্রিয়তা বাংলাদেশকে মর্মাহত করেছেঃ প্রধানমন্ত্রী সুনামগঞ্জের শাল্লার সেই ঝুমন দাশ অবশেষে জামিন পেলেন চট্টগ্রামে MLM ব্যবসার ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত অনেকের মত আমার এক ফেসবুক বন্ধু! অতিরিক্ত মাদক সেবনে বন্ধুর মৃত্যুর দায় এড়াতে লাশ গুম করে অপহরণ নাটক;অতঃপর আটক এমএল কোম্পানী সুইসড্রাম কোম্পানির পরিচালক কাজী আল-আমিনসহ ১৭ জন আটক শীঘ্রই তৈরি হবে আইপি টিভি রেজিস্ট্রেশন নির্দেশিকা -তথ্যমন্ত্রী মানুষের জন্য কল্যাণকর সকল প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ইউপি চেয়ারম্যান কর্তৃক অপর ইউপি চেয়ারম্যানকে চড়-থাপ্পর

কন্ঠশিল্পী কামাল আহমেদ: কর্ম, সৃজন, মানবতা ও শুদ্ধাতার আলোয় উদ্ভাসিত অনন্য এক মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

Reporter Name
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ১৫ জন দেখেছেন

কর্ম, সৃজন, মানবতা ও শুদ্ধাতার আলোয় উদ্ভাসিত অনন্য এক মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও কণ্ঠশিল্পী কামাল আহমেদ। যেমন তিনি অনেক মানুষকে চেনেন, এখন অনেক মানুষ তাঁকেও চেনে। চেনে-দুই বিশেষ কারণে। এক হলো -বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বেতার ঢাকা কেন্দ্রের পরিচালক হিসেবে কর্মরত। আর দুই হলো – গানের একজন গুনী শিল্পী তিনি। রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রতি আসক্তি বেশি হলেও মাঝে-মধ্যে অন্যসব গানেও তাঁকে পাই আমরা। ভালো গান বলতে যা বোঝায়, সেই গান গেয়ে যাওয়াই তাঁর আজীবনের ইচ্ছে। কিছু হয়েছে পূরণ, হয়তো কিছু হয়নি পূরণ। সেই স্বপ্ন পূরণের সাধনায় এখনও তাঁর ব্যস্ততাময় জীবন-যাপন।

কামাল আহমেদ’র জন্ম পাবনার নিভৃত-পল্লী খোঁকড়া গ্রামে। প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেছেন গ্রামের এক স্কুলে। যে স্কুলে ঠিকমতো বেড়া ছিল না, মেঝেটা ছিল উচুঁ-নিছু। স্কুলে যেতেন কিন্তু স্যান্ডেল থাকতো না পায়ে। পরতেন হাফ প্যান্ট, হাঁটু অবধি ধুলোবালি – এভাবেই স্কুল, এভাবেই সারাদিন, এভাবেই ক্লাস ফাইভ পর্যন্ত একই স্কুলে। তারপর পাশের গ্রামে এক হাইস্কুলে ক্লাস-এইট পর্যন্ত পড়াশুনা। সেই স্কুলের নামটি ছিলো ‘‘বাঁশের বাদা উচ্চবিদ্যালয়’’। ঐ স্কুল থেকে তিনিই প্রথম ক্লাস এইটে বৃত্তি পান। অর্জনটা তার পড়াশুনা আরো ভালো করার উৎসাহ হিসেবে কাজ করে। তখন বিজ্ঞান বিভাগে পড়ার ইচ্ছেটা মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। তার গ্রাম থেকে দুই গ্রাম দূরের আরেকটা স্কুলে নাইন-টেন পর্যন্ত পড়া। এই স্কুলে পড়ার সময়েই একটা সাংস্কৃতিক পরিবেশ পান। গান-বাজনা করার সুযোগ পান। তখন তিনি হারমোনিয়াম বাজাতে পারতেন না, খালি গলায় গান করতেন। গানের প্রতিযোগিতার অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে গেলেন, আর সেই থেকে প্রতিজ্ঞা করলেন- ভালো লেখাপড়ার পাশাপাশি ভালো গানও তাকে গাইতে হবে। এস.এস,সি পর্যন্ত গ্রামেই কেটেছে তার। তারপর ভালো লেখাপড়া করতে হবে, ভালো কলেজে পড়তে হবে, মূলত এই তাগিদেই শহরমূখী হওয়া।

গ্রামে থাকতে খোলা মাঠ ছিল কামাল আহমেদ’র গান গাইবার নিরাপদ আশ্রয়। খুব রেডিও শুনতেন, গান শুনেই তা গাইবার চেষ্টা করতেন। পারিবারিক পরিবেশ ছিলো তার গানের বিরুদ্ধে । ধর্মপ্রাণ বাবা চাইতেন না তিনি গান করেন। তাই মনে মনে ঠিক করলেন, তিনি গ্রাম ছেড়ে শহরে যাবেন এবং সেখানেই গানের চর্চা করবেন। ক্লাস এইটে পাওয়া স্কলারশিপের টাকা দিয়ে বাবার অজান্তেই একটা হারমোনিয়াম কিনলেন। হারমোনিয়ামটা বাসায় না এনে অন্য বাসায় রেখে দিলেন। তারপর তিনি পাবনা এডওয়ার্ড কলেজ থেকে এইচ.এস.সি পাশ করে একই সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং সঙ্গীতশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছায়ানটে ভর্তি হন। আর এভাবেই শুরু হয় তার পদ্ধতিগত সঙ্গীত – জীবনের পথ – চলা।

 

ছায়ানটের গুনী-শিল্পীদের সান্নিধ্যে কামাল আহমেদ তার সঙ্গীত-জীবনকে বিকশিত করার প্রয়াস পেলেন। ওয়াহিদুল হক ছিলেন তুলনাহীন এক শিক্ষক। যেন তাঁর কাছ থেকেই ধীরে ধীরে রবীন্দ্রনাথকে বুঝতে শেখা এবং রবীন্দ্র-ভক্ত হয়ে ওঠা। এ ছাড়াও সনজিদা খাতুন, ইখতিয়ার ওমর এবং সিরাজুস সালেকিনের মতো গুনী-শিল্পীদের সান্নিধ্য পান। উচ্চাঙ্গ-সঙ্গীতের ক্লাস নিতেন ওস্তাদ ফুল মোহাম্মদ। শাসন এবং স্নেহ দিয়ে কী অসাধারণ যোগ্যতায় শেখাতেন তিনি- আজো ভুলতে পারেননি। এত ভালোবাসতেন আর এত স্নেহ করতেন যে, তার পাশে বসলেই ভালো লাগতো।

সঙ্গীতের প্রতি নিঃশর্ত অনুরাগ কামাল আহমেদ’র পেশা নির্বাচনেও প্রভাব ফেলেছিলো। শিক্ষাজীবনেই রেডিও-র সঙ্গে তার প্রথম প্রেম । পড়ার টেবিলে বইয়ের পাশে থাকতো রেডিও। কখনো পড়তে পড়তে, কখনো বা পড়ার ফাঁকেই রেডিও শোনা। আর তখন থেকেই একটা প্রশ্ন তাকে উত্তাল করতো, যদি রেডিও-তে একটা চাকরি পাওয়া যেতো ! অনার্স শেষে বি.সি.এস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন এবং সেখানে তার পছন্দের তালিকার প্রথমেই ছিলো ইনফরমেশন ক্যাডার – কারণ তিনি তখন ভেবেছিলেন রেডিও বা টেলিভিশনে তার মেধা-মনন এবং চাওয়া-পাওয়ার মিলন ঘটাতে পারবেন অনায়াসেই। বি.সি.এস পরীক্ষায় প্রথম পছন্দ ইনফরমেশন ক্যাডার পেয়েই উত্তীর্ণ হন এবং যোগদান করেন বাংলাদেশ বেতারে। যদিও বর্তমানে টেলিভিশনে ক্যাডার সিস্টেমটা নেই, তবু ডেপুটিশনে তিনি বেশ কিছুদিন বাংলাদেশ টেলিভিশনেও কাজ করেছেন।

গানের সুন্দরকে সঙ্গে নিয়ে কামাল আহমেদ সাধনা করে চলেছেন। বিশুদ্ধ গান তাকে টানে এবং তার মনে ভালোলাগার জোয়ার আনে। সেই ভালোলাগা থেকেই একে একে তার ২০টি এ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। ০১. সাদা মেঘের ভেলা (রবীন্দ্রসঙ্গীত) (২০০৭) ০২. নানা রঙের দিনগুলি (রবীন্দ্রসঙ্গীত) (২০০৮) ০৩. পথ চাওয়াতেই আনন্দ (রবীন্দ্রসঙ্গীত) (২০০৯) ০৪. ফাল্গুনের দিনে (রবীন্দ্রসঙ্গীত) (২০১০) ০৫. নিঃশব্দ চরনে ( মিক্সড এ্যালবাম-রবীন্দ্রসঙ্গীত) (২০১১) ০৬. গোধূলি ( হারানো দিনের গান) অ ঞৎরনঁঃব ঃড় করংযড়ৎ কঁসধৎ (২০১২) ০৭. কান পেতে রই (রবীন্দ্রসঙ্গীত) (২০১৩) ০৮. বেঁধেছি আমার প্রাণ (রবীন্দ্রসঙ্গীত) (২০১৪) ০৯. ভরা থাক স্মৃতিসুধায় (রবীন্দ্রসঙ্গীত) (২০১৫) ১০. অধরা ( আধুনিক গান) (২০১৬) ১১. গানের তরী ( তিন কবির গান) (২০১৬) ১২. বালুকা বেলায় অ ঞৎরনঁঃব ঃড় ঐবসধহঃড় গঁশযবৎলবব (২০১৬) ১৩. নিদ্রাহারা রাতের গান (রবীন্দ্রসঙ্গীত) (২০১৬) ১৪. দূরের বন্ধু (রবীন্দ্রসঙ্গীত) (২০১৬) ১৫. একুশের স্বরলিপি (মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের গান) (২০১৯) ১৬. নীল সমুদ্র (দ্বৈতকন্ঠে আধুনিক গান) (২০২০) ১৭. মহাকাব্যের কবি (জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিবেদিত গান) (২০২০) ১৮. মহাকবি (বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি) (২০২০) ১৯. প্রথম প্রেম (রবীন্দ্রসঙ্গীত) (২০২১) ২০. তোমার অসীমে (রবীন্দ্রসঙ্গীত) (২০২১)।

সব শিল্পীরাই সব রকম গান গাইতে পারেন না। রবীন্দ্রসঙ্গীতের বাইরেও কামাল আহমেদ অন্য গান গেয়ে চলেছেন। একজন শিল্পী হিসেবে এই বাড়তি যোগ্যতাটুকু তিনি অর্জন করেছেন। তিনি মনে করেন, যে কোনো কাজের ভালো ফলের জন্য দরকার ভালোবাসা। ভালোবাসার শক্তি দিয়ে সফলতাকে পাওয়া সম্ভব। একই সঙ্গে শিখতে হবে, জানতে হবে এবং করতে হবে সাধনা।

কামাল আহমেদ ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় হতে স্মাতক ও স্মাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে অধ্যায়নকালীন তিনি শহীদুল্লাহ হল ছাত্র সংসদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় তিনি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৈরব অর্জন করেন। তিনি ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক দলের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে কাজ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক দলের (ডাকসু) প্রতিনিধি হয়ে ভারতের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও কলকাতার অন্য একটি মিলনায়তনেও গান গাইবার সুযোগ পেয়েছেন।
তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য, সহ-সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ও উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি বিসিএস তথ্য-সাধারণ বেতার কর্মকর্তা কল্যান সমিতির সভাপতি। তিনি নবম বিসিএস ফোরামের সাবেক মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

কামাল আহমেদ তাঁর কর্মের স্বীকৃতি স্বরূপ ৭ (সাত) টি পদক লাভ করেন:
০১. সার্ক ক্যালচারাল সোসাইটি এ্যাওয়ার্ড (২০১০)
০২. বঙ্গবন্ধু গবেষণা ফাউন্ডেশন এ্যাওয়ার্ড (২০১৫)
০৩. অদ্বৈত মল্লবর্মণ এ্যাওয়ার্ড, মহারাজা বীর বিক্রম বিশ^বিদ্যালয়, ভারত (২০১৭)
০৪. বীর শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত এ্যাওয়ার্ড, আগরতলা, ত্রিপুরা, ভারত (২০১৭)
০৫. ফোবানা এ্যাওয়ার্ড, কানাডা (২০১৭)
০৬. রাজশাহী বেতার শিল্পী সংস্থা সম্মাননা (২০১৮)
০৭. জাতীয় রবীন্দ্র গবেষণা ও চর্চা কেন্দ্র সম্মাননা (২০১৯)

ছাত্রজীবনে এবং চাকুরীজীবনে অনেকবারই গান গাইতে মঞ্চে ওঠেছেন কামাল আহমেদ। পেশাগত জীবনে ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল সব অঞ্চলেই গেয়েছেন গান। বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন ছাড়াও বেসরকারি টিভি চ্যানেলেগুলোতেও অনেকবার গান গেয়েছেন। দেশের বাইরে শ্রীলংকা, ভারত ও কানাডায় একাধিক অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন।

কামাল আহমেদ ২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট ব্রডকাস্টিং টিমের দলনেতা হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফর করেন। এছাড়া সরকারি কাজে দায়িত্ব পালনে ২০১৩ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রতিনিধি হিসেবে নেপাল সফর তিনি। এর আগে ২০১২ সালে ক্রিকেট ব্রডকাস্টিং টিমের দলনেতা হিসেবে জিম্বাব্যুয়ে এবং ২০১১ সালে বিশ্বকাপ ক্রিকেট ব্রডকাস্টিং টিমের দলনেতা হিসেবে শ্রীলংকা সফর করেন। এ ছাড়াও কানাডা, ভারত, সিঙ্গাপুর, দুবাই এবং সৌদি আরবও ভ্রমণ করেছেন তিনি।

কর্মব্যস্ততার মাঝেই সঙ্গীত-সাধনা করেন কামাল আহমেদ। যেমনটি তিনি আগেই বলেছেন, ভালোবাসা থাকলে সবকিছুই সম্ভব। এই ভালোবাসার জন্য ৮ম এডওয়ার্ড বৃটিশ সিংহাসন পর্যন্ত ত্যাগ করেছিলেন। ভালোবাসা থাকলে সঙ্গীত-সাধনার সময় ঠিকই বের করা সম্ভব। এই যেমন তিনি সারাদিন অফিস শেষে বাসায় ফিরে রাতে এবং অফিসে আসার আগে সকালে ঘন্টাখানেক সময় সঙ্গীত-সাধনায় বসে যান।
রবীন্দ্রসঙ্গীতের প্রিয় শিল্পীর তালিকায় অনেকেই কামাল আহমেদ’র মনের ভেতরে গেঁথে আছেন। তাদের মধ্যে সুবিনয় রায়, চিম্বয় চট্্েরাপাধ্যায়, সাগর সেন, দেবব্রত বিশ্বাস, রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যা – এঁদের গাওয়া গান তার মনকে জয় করে আছে। আধুনিক গান গাইতে গিয়ে এদেশের স্বনামধন্য সুরকার শেখ সাদী খান, আলী হোসেন এবং আজাদ রহমান, বাসু, লাকী আখন্দ ছাড়াও প্রথম সারির বেশ ক’জন সুরকারের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে তার।

কামাল আহমেদ’র মতে আমাদের বর্তমান প্রজন্ম গানের সুন্দর অতীত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। আমাদের এই প্রজন্ম ব্যান্ডসঙ্গীত শুনছে যেভাবে, সেভাবে নজরুলসঙ্গীত, রবীন্দ্রসঙ্গীত কিংবা মান্না দে, হেমন্ত মুখ্যেপ্যাধ্যায়, শ্যামল মিত্র, লতা মুঙ্গেশকরের গাওয়া ভালো অনেক গানই শুনছে না। দোষ ওদের নয়। ওদের ভালো গানে আচ্ছন্ন করতে আমাদের অভিভাবকদের বাড়িতে বিশুদ্ধ গান শোনার অভ্যেস করতে পরামর্শ দেন তিনি। ভালো বাংলা গানকে ওদের কানে পৌঁছে দেয়া খুব দরকার। ওরা ব্যান্ডের গায়কদের মুখে শচীন দেব বর্মনের গান শুনে ভেবে নিচ্ছে, এটা ব্যান্ডেরই কোনো গান। ব্যাপারটা সত্যিই দুঃখজনক।

অনেক বেসরকারি এম.এম. রেডিও চ্যানেল গীতিকার, সুরকার এবং শিল্পীর নাম পর্যন্ত বলে না। কামাল আহমেদ এ বিষয়ে একটা নীতিমালা থাকা উচিত বলে মনে করেন। মূলকে অস্বীকার করে গাছের ফল-ফুলকে ভাবা যায় না। ‘বধুঁয়া আমার চোখে জল এনেছে’-গানটি শ্রীকান্ত আচার্য গেয়েছেন। কিন্তু মূল গানের গীতিকার, সুরকার ও শিল্পী জটিলেশ্বর মুখ্যোপাধ্যায় । এ প্রজন্মের অনেকেই জানে না বলে ওরা ভেবে নিচ্ছে এটি শ্রীকান্ত আচার্যেরই গান। এ ক্ষেত্রে গানটি উপস্থাপনায় সকল তথ্যই জানিয়ে দেয়া উচিত হবে বলে কামাল আহমেদ মনে করেন।

গানই কামাল আহমেদ’র প্রাণ। তিনি গান নিয়ে আছেন এবং যতদিন বেঁচে আছেন গান নিয়েই থাকবেন। বাঙালি-সংস্কৃতিকে নিয়ে যে সব সংগঠন কাজ করে, তাদের সঙ্গে কর্মী হিসেবে কাজ করতে চান তিনি। চাকরি-জীবন শেষে গান প্রকাশনা কেন্দ্রিক একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলবার ইচ্ছে তার। যার মাধ্যমে ভালো-গানের প্রচার-প্রসার ঘটানো সম্ভব হবে। তার গানের হাতেখড়ি যার কাছে সেই শ্রদ্ধেয় ওয়াহিদুল হক প্রতিষ্ঠিত রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মেলন পরিষদের সঙ্গে আজীবন সক্রিয়ভাবে কাজ করে যেতে চান। গানের হাত ধরে সামনে এগিয়ে যেতে চান এবং মানুষের মনের অনুভবের জায়গা জুড়ে থাকতে চান। কামাল আহমেদ কামনা করেন ভালো গানের শ্রোতা সমর্থন। ভালো গানের ভেতরের যে জ্ঞান থাকে, সেই জ্ঞান সবার প্রাণ দখল করুক, সফল করুক আমাদের গানের স্বপ্ন। নিজের জন্যে চান সবার প্রাণের শুভকামনা ॥

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ

সহযোগী প্রতিষ্ঠান

© All rights reserved © 2021 The Daily Bangladesh Shomachar
প্রযুক্তি সহায়তায় একাতন্ময় হোস্ট বিডি