1. admin@bangladeshshomachar.com : admin :
  2. mahadiislam.datasource@gmail.com : Mahadi Islam : Mahadi Islam
রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৫৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মাঝারি ও ছোটরা এখনো দুর্দিনে নেত্রকোণায় রুরাল জার্নালিস্ট ফাউন্ডেশনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ঢাকা বিমানবন্দরে ২২ হাজার পিস ইয়াবাসহ সৌদিগামী এক যাত্রী আটক কাব্য টোকাইয়ের অভিষেক”গ্রন্থ আলোচনায় প্রধান অতিথি বাংলা একাডেমির সচিব খাদ্য উৎপাদনে বাস্তবমূখী হতে হবে-মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী রাজাখালীতে অবৈধ অস্ত্র উচিয়ে শোডাউন;শীর্ষ সন্ত্রাসী মহিউদ্দিন জনি সহযোগীসহ আটক ১০০ কোটি টাকা আত্মসাত করে ঢাকায় বানায় আলিশান বাড়ি;জুবলী ট্রেডার্স এর মালিক হায়দার আলী আটক সর্বক্ষেত্রে দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের মাধ্যমে নারীর অগ্রযাত্রা সম্ভব -তথ্য ও সম্প্রচার সচিব নোয়াখালী সোনাইমুড়ী বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের ৪ জনের মৃত্যু সুরাজপুর-মানিকপুর ও বিএমচর ইউনিয়নে আইএসডিই এর উদ্যোগে ৩০০ পরিবারের মধ্যে খাদ্য ও সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ বাগীশিক নাজিরহাট পৌরসভা সংসদের সনদ পত্র বিতরন ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

আজ ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৪৭ তম শুভ জন্মাষ্টমী

Reporter Name
  • প্রকাশিত : সোমবার, ৩০ আগস্ট, ২০২১
  • ৪৪ জন দেখেছেন

কমল চক্রবর্তীঃ
প্রথমত জেনে নিই জন্মাষ্টমী কী?জন্মাষ্টমী হল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মতিথি। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে রোহিণী লক্ষত্র যোগে কৃষ্ণ মধুরায় কংসের কারাগারে মাতা দেবকীর অষ্টম সন্তান রূপে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর এই জন্মদিনকে জন্মাষ্টমী বলা হয়। ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার অর্থাৎ ভগবান কৃষ্ণের জন্মদিন হিসেবেই জন্মাষ্টমী পালন করা হয়ে থাকে। প্রাচীন শাস্ত্র অনুযায়ী আজ থেকে ৫২০১ বছর আগে থেকেই জন্মাষ্টমীর সূচনা হয়।

জন্মাষ্টমী নিয়ে জানতে গেলে আগে আপনাকে ভগবান কৃষ্ণর ব্যাপারে জানা দরকার। হিন্দু শাস্থ মতে ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার হলেন ভগবান কৃষ্ণ। ভগবান কৃষ্ণ-কে সাধারনত অধর্ম এবং দুর্জনের বিনাশকারী হিসেবে ধরা হয়ে থাকে।

আজ সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের আরাধ্য ভগবান শ্রী কৃষ্ণের ৫২৪৭ তম জন্মতিথি। আর এই তিথিকে কেন্দ্র করেই প্রতি বছর সনাতন ধর্মাবলম্বী তথা কৃষ্ণপ্রেমীরা জন্মাষ্টমী পালন করে থাকেন। ৩৩ কোটি দেব দেবীর মধ্যে ভাদ্রমাসের কৃষ্ণপক্ষের অষ্টমী তিথিতে ভগবান বিষ্ণুর মানবরূপ শ্রীকৃষ্ণ জন্ম গ্রহণ করেন। তাই এই বিশেষ দিনটিতে বিভিন্ন আনন্দ উৎসবের মধ্যে দিয়ে পালন করে প্রত্যেক কৃষ্ণপ্রেমী  ও সনাতনী সম্প্রদায়ের ভক্তপ্রান মানুষ।

আজ থেকে ৫ হাজার বছর পূর্বে দাপর যুগে যখন রাজা কংসের অত্যাচারে চারিদিকে অরাজকতা, নৃসংশতা, নিপীড়নে মানুষ জর্জরিত, সে সময়ে বাসুদেব এবং দেবকীর ঘরে ভূমিষ্ট হয় কৃষ্ণাবতার। এদিকে আবার দেবকীর অষ্টম সন্তানের হাতে নিজের বিনাশের দৈববাণী যেন কংসরাজাকে সর্বদাই আতঙ্কতি করে রাখত।

ফলে সে তার বোনের গর্ভে সদ্য ভূমিষ্ট প্রতিটি সন্তানকেই নৃশংস্যভাবে হত্যা করতেন। তবে গর্ভ স্থানান্তরিত করায় রোহিনীর গর্ভে জন্ম নেয় দেবকীর সপ্তম সন্তান বলরাম। কিন্তু সবশেষে অধর্মের বিনাশ ঘটাতে জন্ম হয় কৃষ্ণের। তবে তার প্রাণ রক্ষার্থে ভগবান বিষ্ণুর নির্দেশানুসারে বাসুদেব, কৃষ্ণপক্ষের সেই দুর্বার প্রলয়ের রাতে সদ্য ভূমিষ্ট সন্তানকে মা যশোদার কাছে রেখে আসেন। পাশাপাশি মা যশোদার কন্যাকে নিয়ে আসেন।

জন্মগ্রহণ করলেও কৃষ্ণের সন্ধান না পাওয়ায় রাজা কংস, পুতনা রাক্ষসীকে সকল ছয়মাস বয়সী শিশুদের হত্যার আদেশ দেন। রাজা কংসের নির্দেশ মত রাক্ষসী পুতনা স্তন পান করানোর ছলে, একের পর এক নির্মম ছোট শিশুদের হত্যা করতে থাকে। অবশেষে যখন পুতনা কৃষ্ণের সন্ধান পান এবং তাকে স্তন পান করাতে যান, তখন ওই মাত্র ছয়মাস বয়সেই ছোট্ট কৃষ্ণ স্তনপানের মাধ্যমে পুতনার প্রাণ নাশ ঘটায়।

এরপর সময়ের নির্বিশেষে একে একে কালীয়ানাগ, রাজা কংসসহ জগতের নানা দুষ্টকে তারা নানা লীলার মাধ্যমে নিঃশেষ করে সদধর্ম এবং সদকর্মের বার্তা দিয়ে গেছেন ভগবান শ্রী কৃষ্ণ। তিনি বলেছেন, ‘যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত। অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্’।

বস্তুত এই কারণেই সকল হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষের মনে শ্রীকৃষ্ণ আজ বিরাজমান। সেইকারনেই আজ তার জন্মের সেই পবিত্র দিনটিকে কেন্দ্র করে পালিত হয় জন্মাষ্টমী। এইদিন মূলত একটি উঁচু দড়িতে মাখনের হাড়ি ফাটানোর জন্য বালকের দল একটি উঁচু সারি অর্থাৎ মানুষের পিরামিড তৈরি করে। তারপর তারা যৌথ উদ্যোগে সেই হাড়ি ফাটিয়ে, হাড়ির মাখন সকলের মধ্যে বিলি করে।

পাশাপাশি এদিন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মবৃত্তান্ত যাত্রা বা গানের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়, যা এই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এইদিন শ্রীকৃষ্ণের অনুগামীরা সারাদিন উপবাস থেকে ভগবানকে স্নান করিয়ে, দোলনায় দুলিয়ে, তার নিমিত্তে ভোগ রন্ধন করে, তাঁকে উতসর্গ করে তারপর নিজেরা আহার গ্রহণ করেন। বিশেষত এই দিনটিতে মথুরা, বৃন্দবনে এমনকি অনেকের ঘরে ঘরেও ধুমধাম করে পালন করে থাকেন।

শ্রীকৃষ্ণের সংক্ষিপ্ত জীবনী

শ্রীকৃষ্ণ ছিলেন দেবকি ও বাসুদেব এর সন্তান এবং হিন্দু ধর্মাম্বলীরা তাঁর জন্মদিন জন্মাষ্টমী হিসেবে পালন করে।

শ্রীকৃষ্ণের জন্মের সময় চারিদিকে অরাজকতা, নিপীড়ন, অত্যাচার চরম পর্যায়ে ছিল। সেই সময় মানুষের স্বাধীনতা বলে কিছু ছিল না। সর্বত্র ছিল অশুভ শক্তির বিস্তার।

শ্রীকৃষ্ণের মামা কংস ছিলেন তাঁর জীবনের শত্রু। মথুরাতে শ্রীকৃষ্ণের জন্মের সাথে সাথে সেই রাতে তাঁর বাবা বাসুদেব তাঁকে যমুনা নদী পার করে গোকুলে পালক মাতা পিতা যশোদা ও নন্দর কাছে রেখে আসেন।

জন্মাষ্টমী কিভাবে পালন করা হয়

হিন্দু ধর্মাবলম্বী বিশেষত বৈষ্ণবদের কাছে জন্মাষ্টমী একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসব। এই উৎসব নানা ভাবে উদ্‌যাপন করা হয়। যেমন – ভগবত পুরাণ অনুযায়ী নৃত্য, নাটক যাকে বলা হয় রাসলীলা বা কৃষ্ণ লীলা, মধ্যরাত্রি তে শ্রীকৃষ্ণের জন্মের মুহূর্তে ধর্মীয় গীত গাওয়া, উপবাস, দহি হান্ডি প্রভৃতি।

রাসলীলা তে মূলত শ্রীকৃষ্ণের ছোটবেলার বিভিন্ন ঘটনা দেখানো হয়।

অন্যদিকে দহি হান্ডি প্রথায় অনেক উঁচুতে মাখনের হাড়ি রাখা হয় এবং অনেক ছেলে মিলে মানুষের পিরামিড তৈরি করে সেই হাড়ি ভাঙ্গার চেষ্টা করে। তামিলনাড়ুতে এ প্রথা উড়িয়াদি নামে পরিচিত।

এই দিন মানুষ কৃষ্ণের প্রতি ভালোবাসা ব্যক্ত করার জন্য অভুক্ত থাকে, ধর্মীয় গান গায় এবং উপবাস পালন করে।

শ্রীকৃষ্ণের জন্ম তিথিতে মধ্যরাতে তার ছোট ছোট মূর্তি কে স্নান করিয়ে কাপড় দিয়ে মোছা হয় এবং দোলনায় সাজানো হয়। তারপর উপাসক মন্ডলী নিজেদের মধ্যে খাদ্য ও মিষ্টান্ন বিনিময় করে উপবাস ভঙ্গ করে।

গৃহস্ত মহিলারা বাড়ির বিভিন্ন দরজার বাইরে, রান্নাঘরে শ্রী কৃষ্ণের পদচিহ্ন এঁকে দেন যা শ্রীকৃষ্ণের যাত্রা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
বর্তমান বছরটি শ্রীশ্রীকৃষ্ণের কত তম জন্মাষ্টমী। 
১৪২৮ বাংলার (২০২১ সাল) জন্মাষ্টমী ভগবান শ্রীকৃষ্ণের ৫২৪৭তম জন্মাষ্টমী। কারণ, বিভিন্ন পুরাণ ও প্রাচীন গ্রন্থ মতে, ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ১২৫ বছর প্রকট লীলাবিলাস করেন। ১২৫ বছর ধরাধামে অবস্থান করে বৈকুন্ঠে গমন করেন। মাঘ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে তিনি ইহধাম ত্যাগ করে অন্তর্ধান করেন। সেই দিনই কলি প্রবেশ করে। সেই দিন ছিল শুক্রবার। খ্রিস্টপূর্ব ৩১০১ সালে কলিযুগ আরম্ভ হয়। বর্তমান ২০২১ খ্রিস্টাব্দ। তা হলে কলির বয়স ৩১০১+২০২১=৫১২২ বছর। শ্রীকৃষ্ণের অর্ন্তধানের দিন কলির আবির্ভাব। শ্রীকৃষ্ণ ১২৫ বছর প্রকট লীলা করেছেন। তা হলে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ৫১২২+১২৫=৫২৪৭ বছর পূর্বে হয়েছিল।

পুজোর সময় এবং নির্ঘণ্ট:
* অষ্টমী তিথি সমাপ্ত – ৩০ অগাস্ট, সোমবার, রাত ১টা ৫৯ মিনিটে।

* জন্মাষ্টমী পুজোর শুভক্ষণ – রোহিণী নক্ষত্র
রোহিনী নক্ষত্র শুরু – ৩০ অগাস্ট, সোমবার সকাল ৬টা ৩৯ মিনিটে।
রোহিণী নক্ষত্র শেষ – ৩১ অগাস্ট, মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৪৪ মিনিট।

রোহিণী নক্ষত্রে জন্মাষ্টমী পুজোর শুভক্ষণ:

* ৩০ অগাস্ট, রাত ১১টা ৫৯ মিনিট থেকে ১২টা ৪৪ মিনিট পর্যন্ত পুজোর শুভক্ষণ। ৩০ অগস্ট রাত ১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত রোহিণী নক্ষত্র থাকবে। এই সময় অনুযায়ী ৪৫ মিনিটের মধ্যে পুজো সম্পন্ন করতে হবে।

জন্মাষ্টমী ব্রতভঙ্গের সময়:

* ৩১ অগাস্ট সকাল ৯টা ৪৪ মিনিটের পর পারণ করা যাবে।

বিএস/কেসিবি/সিটিজি/৭ঃ১৫এ এম

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ

About Us

সম্পাদক ও প্রকাশক: ড. খান আসাদুজ্জামান
ঠিকানা: এম এস প্লাজা (৮তলা) ২৮সি/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, বা/এ, ঢাকা-১০০০
নিউজ সেকশন: ০১৬৪১৪২৮৬৭০
বিজ্ঞাপন: ০১৯৯৬৩০৩০৭১
মফস্বল: ০১৭১৫২২৮৩২২
ই-মেইল: bangladeshshomachar@gmail.com
ওয়েবসাইট: www.bangladeshshomachar.com
ই-পেপার: www.ebangladeshshomachar.com
© All rights reserved © 2021 The Daily Bangladesh Shomachar
প্রযুক্তি সহায়তায় একাতন্ময় হোস্ট বিডি