1. admin@bangladeshshomachar.com : admin :
  2. mahadiislam.datasource@gmail.com : Mahadi Islam : Mahadi Islam
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মাঝারি ও ছোটরা এখনো দুর্দিনে উপজেলা ও পৌরসভাগুলোকে শক্তিশালী করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছেঃমুখ্য সচিব সরকার আইটি খাতকে গুরুত্ব দেয়ায় দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে-মেয়র পরীর পাহাড়ের পরিবেশ সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের নির্দেশনা দেন মুখ্য সচিব বিশ্ব নেতৃবৃন্দের আমন্ত্রণেই প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে গেছেনঃ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিআইজি আনোয়ার হোসেন চট্টগ্রামের মানুষের মঙ্গলের জন্য যা করা প্রয়োজন তাই করা হবেঃমুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস রংপুরে মাদক ব্যবসায়ীর ছুরিকাঘাতে পুলিশ কর্মকর্তা পিয়ারুলের মৃত্যু চট্টগ্রাম নগরীর কাট্টলীতে প্রস্তাবিত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও যাদুঘরের স্থানপরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব সাড়ে তিন হাজার মাদক কারবারির তালিকা প্রস্তুত ডিএনসি’র; গ্রেপ্তারে চলবে অভিযান নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অন্বেষন ও জ্ঞানের দুয়ার খুলে দিতে হবে -মেয়র

জাতরি পতিার ঐতহিাসকি ও র্দূলভ ছব,ি(আলোকচত্রিী লুৎফর রহমান)

মিলন সব্যসাচী
  • প্রকাশিত : বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১
  • ৫৬ জন দেখেছেন

বাংলাদেশের মহান স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের হৃদয়ে তাঁর অমর অক্ষয় কীর্তি ও কালজয়ী স্মৃতি নক্ষত্রের মতো সমুজ্জ্বল। কেউ কেউ পৃথিবীতে আসেন ইতিহাস সৃষ্টির অদম্য বাসনা নিয়ে। বঙ্গবন্ধু এসেছিলেন আপাতমস্তক এক ব্যতিক্রম ইতিহাস হয়ে। তিনি একটি স্বাধীন সার্বভৌম ভ‚-খন্ডের মহান ¯্রষ্টা। তাঁর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ বিশ^ প্রামণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃত। যুগ¯্র্ষ্টা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সান্নিধ্যে যারা বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছেন, বঙ্গবন্ধুর ¯েœহধন্য আলোকচিত্রী লুৎফর রহমান তাদের মধ্যে অন্যতম এবং সৃষ্টিকর্মে সমুজ্জ্বল।
নতুন প্রজন্মের কাছে প্রায় বিস্মৃত হলেও ষাট সত্তর কিংবা আশির দশকের শিল্প সংস্কৃতি কিংবা রাজনৈতিক মহলে সনামধন্য লুৎফর রহমান। বেতার, চলচ্চিত্র, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, শিল্পমাধ্যমে, এমনকি সামাজিক, সাংস্কৃতিক- রাজনৈতিক অঙ্গনের সাথে তাঁর ঘনিষ্ঠতা ছিল অত্যন্ত নিবিড়। প্রায় চার দশকের অধিকাল সময় আলোকচিত্রের মাধ্যমে লুৎফর রহমান সুনামের সাথে জড়িয়ে ছিলেন। ষাট ও সত্তর দশকেই জীবনের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সময় কাটান বিভিন্ন অঙ্গনের বিখ্যাত কিংবদন্তী সব ব্যক্তিদের সাহচর্যে। জীবনে অজস্্র ছবি তুলেছেন বিখ্যাত সব ব্যক্তিদের। তাঁর অনেক ছবি ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে আছে। প্রকৃতি,রাজনীতি ও চলচ্চিত্র মাধ্যমে তোলা তার বেশকিছু ছবি অত্যন্ত দুর্লভ ছবি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। লুৎফর রহমান শুধু একজন বিখ্যাত আলোকচিত্রই নন, তিনি আধুনিক ঢাকা শহরের অনেক ঐতিহ্যবাহী ঘটনা এবং ইতিহাসেরও সাক্ষী।
১৯২৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ¯েœহধন্য আলোকচিত্রী লুৎফর রহমান জন্মগ্রহণ করেন তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় । পরবর্তীতে তার পিতা সপরিবারে রাজশাহীতে চলে আসেন। তার শৈশব- কৈশোর ও তারুণ্যের সোনালি দিনগুলো কেটেছে রাজশাহী মহানগরীর কেন্দ্রস্থল বড়কুঠি এলাকায়। যৌবনেই ছবি তোলা তার একটা শখের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। গরুত্বপুর্ণ ঘটনাগুলোকে ইতিহাসের সাক্ষী করে রাখার প্রয়োজনে পরে শখ থেকে এক পর্যায়ে পেশাদারিত্বে পৌছায় । জীবনের শুরুতে তিনি ছিলেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর সৈনিক। ১৯৫০ -৫২ সালে রাজশাহী নগর কেন্দ্রের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রেসক্লাব এবং সামাজিক – রাজনৈতিক অঙ্গনের খ্যাতিমান ব্যক্তিদের ছবি তুলতে থাকেন তরুণ আলোকচিত্রী লুৎফর রহমান। এ সময় প্রভাস চন্দ্র লাহিড়ী, বীরেন সরকার, প্রমথ নাথ বিশী, মদ্দার, বক্স, কামরুজ্জামান প্রমুখ ব্যক্তিদের সাথে তার পরিচয় ঘটে। রাজশাহীর জমিদার ব্রজেন মিত্রের পারিবারিক অনেক অনুষ্ঠানে তিনি ছিলেন নিয়মিত।
লুৎফর রহমান ষাটের দশকের শুরুতেই চাকরি এবং জীবিকার সন্ধানে রাজশাহী ছেড়ে ঢাকায় চলে আসেন। মহাখালীতে স্থায়ীভাবে বসবাস করেন। আমৃত তিনি সেখানেই ছিলেন। তখন থেকে শুরু হয় তার জীবনের ব্যস্ততম মুহূর্তগুলো। ঢাকায় তার দীর্ঘ ৪৪ বছরের অনেক ঘটনার সাক্ষী হয়ে আছেন তিনি। মহাখালীতে ১৯৬০ সালে নিজস্ব স্টুডিও দেন । প্রতিচ্ছবি নামের এই স্টুডিও থেকে প্রিন্ট হতে থাকে সে সময়ের চলচ্চিত্রাঙ্গন, রাজনৈতিক পরিমন্ডল ও সংস্কৃতাঙ্গনের বিভিন্ন ব্যক্তিদের অজস্্র ছবি। গৌরীপ্রসন্ন মজুমদার,আব্দুল জব্বার, আব্দুল আমিন, শহীদুল্লাহ কায়সার,রাজু আহমেদ, শওকত আকবর,এহতেশাম, আজিম, আনোয়ার হোসেন, জহির রায়হান, সুমিতা দেবী,রওশন জামিল, গওহর জামিল, চলচ্চিত্রকার আব্দুল জব্বার খান, খান আতাউর রহমান, রহমান, শবনম, রোকশানা, শাবানা,সুচন্দা,কবরী, ববিতা, রোজিনা, হাসান,কবি শামসুর রাহমান প্রমুখ ব্যক্তিদের সোনালি দিনের মুখচ্ছবি তার ক্যামেরায় স্থির হয়ে আছে।
১৯৬০ সালের উত্তাল সময়ের বহু রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা লুৎফর রহমানের ক্যামেরায় মূর্ত হয়ে উঠেছিল। ছাত্রনেতা তোফায়েল আহমেদ, নূরে আলম জিকু, রাশেদ খান মেনন, মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, খালেকুজ্জামান, ইলিয়াস থেকে শুরু করে প্রবাদ-প্রতীম শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, আতাউর রহমান, আবুল হাশিম, আবুল মনসুর আহমদ, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানীসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রমহানের উত্তাল ভাষণের ঐতিহাসিক মুহূর্তগুলো এখনও প্রাণবন্ত সজীব হয়ে আছে তার ছবির অ্যালবামে ব্যক্তিগতভাবে এদের অনেকের সাথেই তার হƒদ্যতাও ঘটেছিল সে সময়ে।
১৯৬৬ সালে তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ বেতারে তিনি প্রথম চাকরি নেন । এরপর বিভিন্ন সময়ে শিল্পকলা একাডেমী, এফডিসি, বিটিভি, ডিআইটি, শিশু একাডেমী, জাতীয় যাদুঘর প্রভৃতি প্রতিষ্ঠানের হয়ে তিনি কাজ করেন। স্বধীনতা পূর্বকালে ১৯৬৬ সালে আইয়ুব-বিরোধী প্রবল গণআন্দোলনের সময় প্রথম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে পরিচিত হন, তিনি তখন রাজশাহীতে বঙ্গবন্ধু আইয়ুব বিরোধী রাজনৈতিক প্রচারণায় অংশ নিচ্ছিলেন। সেখানেই প্রথম বঙ্গবন্ধুর ছবি তোলেন নিজ ক্যামেরায়। বঙ্গবন্ধু সেদিন লুৎফর রহমানকে বলেন, ‘এই মিয়া, তোমার ছবি ভালো হইলে আমারে দিবা, আমি ঢাকায় যেয়ে তোমার ছবি নেব।’
সেদিনই প্রথম পরিচয়, প্রথম আলাপচারিতা বাঙালি জাতির কিংবদন্তী নেতার সাথে। এ ঘটনার পর থেকে বঙ্গবন্ধুর মৃত্যু পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু এবং তার পরিবারের সাথে আলোকচিত্রীসাংবাদিক লুৎফর রহমানের ঘনিষ্ঠতা অক্ষুণœ ছিল।
গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী এবং শেখ মুজিবুর রহমান রাজশাহী এলেন বাঙালিদের দাবি দাওয়া নিয়ে বক্তব্য রাখতে। দু’জনই মঞ্চে পাশাপাশি বসে আছেন। দু’কাপ চা রাখা তাদের সামনে। কি মনে করে তাদের ইচ্ছে হলো মুড়ি খাবেন। সাথে সাথে মুড়ি নিয়ে আসা হলো। নির্ভেজাল আনন্দের সাথে তারা চা-মুড়ি খাচ্ছেন। লুৎফর রহমান সে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলেন। তিনি মঞ্চের খুব কাছ থেকে তাদেরকে প্রথমবারের মতো প্রত্যক্ষ করে দৃশ্যটি ক্যামেরাবন্দী করেন। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক দলের সাথে ভারত সফর করেন লুৎফর রহমান। দেশের প্রথম সাংস্কৃতিক দলের অন্যান্য প্রতিনিধিরা ছিলেন আব্দুল জব্বার, আব্দুল আলীম, নীনা হামিদ, ফেরদৌসী রহমান, গওহর জামিল, হাসান ইমাম প্রমুখ। বঙ্গভবনে অনেক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে তিনি নিয়মিত উপস্থিত ছিলেন । সেখানে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি স্বনামধন্য ব্যক্তিকে কাছে থেকে দেখেন, অনেকের সাথেই পরিচিত হন। এদের প্রায় সবারই ছবি ক্যামেরায় ধরে রাখেন। পাশে থেকে তোলা বঙ্গবন্ধুর ভাষণদানরত অবস্থার একটি মুহূর্ত তার ক্যামেরায় জীবন্ত হয়ে আছে। পরবর্তীতে এই ফটোগ্রাফটি বিভিন্ন ম্যাগাজিন পত্রিকায় ব্যাপকভাবে ব্যবহƒত হয়েছে। ১৯৭৩ সালের গানের পাখি বলে পরিচিত উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী হেমন্ত মুখপাধ্যায় বাংলাদেশে এলে বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করেন এবং তাকে ‘দাদা’ সম্বোধন করেন। দুই ভিন্ন অঙ্গনের দুই বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের অন্তরঙ্গ আলোচনার মুহূর্তগুলো লুৎফর রহমানের ক্যামেরায় সজীব হয়ে আছে। বিদেশে ফটোগ্রাফি কনটেস্টেও তার প্রাণবন্ত উপস্থিতি ছিল।
১৯৭৩-৭৪-সালে যুক্তরাষ্ট্রে ফটোগ্রাফি কম্পিটিশনে ছবি যাবে বাংলাদেশ থেকে। লুৎফর রহমানের তোলা দু’টি ছবি পাঠানো হয় তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে। হতাশাগ্রস্থ মানুষ ও প্রকৃতির উপর ছিল ফটোগ্রাফগুলো। বিস্ময়করভাবে দুটি ছবিই ১ম ও ২য় পুরস্কার পায়। এটা তার জীবনে অভাবনীয় পাওয়া। জীবনে কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন জীবিতাবস্থাতেই। ষাটের দশকে ফটোগ্রাফিতে অবদান রাখার জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে ১২টি সার্টিফিকেট ও পদক লাভ করেন। স্বাধীন বাংলাদেশে তিনি টেনাশিশ পুরস্কার পান। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য তিনি ভারত সরকারের কাছে থেকে ২টি সার্টিফিকেট লাভ করেন। তার জীবনের যাবতীয় অর্জনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য মনে করেন ৫, ১০ ও ১০০ টাকার নোট নিজের তোলা বঙ্গবন্ধুর ছবি মুদ্রিত হওয়ার ঘটনাকে। তিনি বিভিন্ন সময়ে বঙ্গবন্ধুর যে ছবিগুলো তোলেন তা থেকে বাছাই করে ৩টি ছবি এই নোটগুলোতে মুদ্রিত করা হয়। এর শুভেচ্ছাস্বরূপ লুৎফর রহমানকে বঙ্গবন্ধু ৩০০০/- টাকা প্রদান করেন এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে তাকে একটি ক্যামেরাও উপহার হিসেবে দেওয়া হয়। ১৯৬৬ থেকে ১৯৯৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৩৩ বছর তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে জড়িত ছিলেন তিনি। ১৯৯৬ সালে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এলে স্মরণিকা প্রকাশের জন্য স্বাধীনতা যুদ্ধের এবং বঙ্গবন্ধুর কিছু ছবির প্রয়োজন হয়। লুৎফর রহমান বেশ কিছু ছবি প্রদান করেন। এ ছাড়া শেখ হাসিনার দেওয়া পুরোনো ছবিগুলোও এডিট করে রিপ্রিন্ট করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে হাসিখুশী সদালাপী লুৎফর রহমান ১ পুত্র এবং তিন কন্যা সন্তানের জনক। তার পুত্র মোস্তাফিজুর রহমান মিন্টু দেশের বিশিষ্ট আলোকচিত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ১৯৭০ সালে তাঁর নান্দনিক ছবি তোলার জন্য ফটোগ্রাফির কিংবদন্তী লুৎফর রহমান পুরস্কৃত হন। লুৎফর রহমান তার আলোকচিত্র জীবন ১৯৪৫ সালের দ্বিতীয় বিশ্বযদ্ধের সময় শুরু করেন। তিনি তার ছবিতে নান্দনিক ও কৌলশগত শিল্প নৈপণ্যের পরিচয় দিয়েছেন । তিনি তৎকালীন রেডিও পাকিস্তানের একজন নিজস্ব আলোকচিত্রী হিসাবে যোগদান করেন।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের ¯েœহধন্য আলোকচিত্রী হিসাবে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অনেক দূর্লভ ছবি তুলে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বহুবার পুরস্কৃত হয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত আলোক চিত্রকার হিসাবে স্বীকৃত। নামীদামি এবং অনেক বিখ্যাতদের ছবি তাঁর সংগ্রহে ছিল।
ভালো কাজের স্বীকৃতি পাওয়া কার না ভালো লাগে? ষাটের দশকে ফটোগ্রাফিতে অবদান রাখার জন্য আলোকচিত্রী লুৎফর রহমান বিভিন্ন পর্যায়ে ১২টি সার্টিফিকেট ও পদক পেয়েছেন। স্বাধীন বাংলাদেশে টেনাশিস পুরস্কারও তার ভগ্যে জুটেছে। মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখার জন্য ভারত সরকারে কাছ থেকেও দুটি প্রশংসা পত্র পেয়েছেন। তবে জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া তার তোলা বঙ্গবন্ধুর ছবি ৫, ১০ ও ১০০ টাকার নোটে মুদ্রিত হওয়া। বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত নতুন নোট মুদ্রণের জন্যে বঙ্গবন্ধুর ছবি চাওয়া হয়েছিল ফট্রোগ্রাফারদের কাছ থেকে। লুৎফর রহমান বিভিন্ন সময় বঙ্গবন্ধুর যে ছবি তুলেছেন তার মধ্য থেকে একটি ছবি বাছাই করে জমা দেন। কিন্ত কি আশ্চর্য। ফলাফল বের হলে দেখা গেল তার ছবিই নির্বাচিত হয়েছে। নির্বাচনের পর এক বিদেশী বিশেষজ্ঞ জানতে চাইলেন ওই ছবির কপি আর কাউকে দিয়েছেন কি না? তিনি তাকে জানালেন,বঙ্গবন্ধু তিন ভক্তকে ওই ছবির তিনকপি দিয়েছেন। তিনি ওই ছবিগুলো ওদের কাছ থেকে ফেরত নেয়ার জন্যে তাৎক্ষণিকভাবে বললেন এবং তিনজন পুলিশসহ লুতফর রহমানকে একটি জীপে তুলে দেয়া হলো। তার কাছ থেকে নেগিটিভও নিয়ে নেয়া হলো। তিনি পুলিশসহ ওই তিন ব্যক্তির বাড়িতে গিয়ে ছবিগুলো ফেরৎ নিয়ে আসেন। তারপর অপেক্ষার পালা। কবে আসবে বঙ্গবন্ধুর ছবি সম্বলিত কাগজি নোট। এক সময় অপেক্ষার পালা শেষ হলো। বাজারে এলো ৫ ও ১০ টাকার নতুন নোট। তাতে লুৎফর রহমানের তোলা বঙ্গবন্ধুর মুদ্রিত ছবি দেখে সত্যিই তিনি অভিভূত হয়েছিলেন। টাকা মুদ্রণকারী বিদেশি সংস্থা তাকে পুরস্কৃত করলো হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল-এ। সেখানে তাকে দেওয়া হলো একটি দামি ক্যামেরা আর প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিুৃর রহমানের পক্ষ থেকে তার প্রেস সেক্রেটারী আমিনুল হক বাদশা সচিবালয় ডেকে তাকে হাতে তুলে দিলেন নগদ তিন হাজার টাকা। কাগজি নোটে মুদ্রিত বঙ্গবন্ধুর ছবি ছাড়াও দেশের গুরনুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান সমূহ বঙ্গবন্ধু যাদুঘরে, টাকা যাদুঘরে, সচিবালয়ে ও টুঙ্গীপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে আলোকচিত্রী লুৎফর রহমানের ক্যামেরায় তোলা, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি শোভা পাচ্ছে। এখানে উল্লেখ্য যে, পিতার প্রদর্শিত পথে সুযোগ্য পুত্র মোস্তাফিজুর রহমান নির্ভিক সৈনিকের মতো এগিয়ে যাচ্ছেন। বর্তমানে তার সংগ্রহেও রয়েছে বঙ্গবন্ধুর ছবির প্রায় পাঁচশত নেগেটিভ। সেখান থেকে বাছাই করে বঙ্গবন্ধুর একটি ঐতিহাসিক ছবির অ্যালবাম তৈরি করা সম্ভব। যা নতুন প্রজন্মের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে গুরুত্ব পাবে। কখনও কখনও একটি ছবি মানেই ইতিহাসের সমুজ্জ্বল অধ্যায় হয়ে থাকে অনন্তকাল।
লেখকঃ কবি, কথাসাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ

সহযোগী প্রতিষ্ঠান

© All rights reserved © 2021 The Daily Bangladesh Shomachar
প্রযুক্তি সহায়তায় একাতন্ময় হোস্ট বিডি