1. admin@bangladeshshomachar.com : admin :
  2. mahadiislam.datasource@gmail.com : Mahadi Islam : Mahadi Islam
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০১:৪০ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মাঝারি ও ছোটরা এখনো দুর্দিনে উপজেলা ও পৌরসভাগুলোকে শক্তিশালী করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছেঃমুখ্য সচিব সরকার আইটি খাতকে গুরুত্ব দেয়ায় দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে-মেয়র পরীর পাহাড়ের পরিবেশ সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের নির্দেশনা দেন মুখ্য সচিব বিশ্ব নেতৃবৃন্দের আমন্ত্রণেই প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে গেছেনঃ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিআইজি আনোয়ার হোসেন চট্টগ্রামের মানুষের মঙ্গলের জন্য যা করা প্রয়োজন তাই করা হবেঃমুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস রংপুরে মাদক ব্যবসায়ীর ছুরিকাঘাতে পুলিশ কর্মকর্তা পিয়ারুলের মৃত্যু চট্টগ্রাম নগরীর কাট্টলীতে প্রস্তাবিত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও যাদুঘরের স্থানপরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব সাড়ে তিন হাজার মাদক কারবারির তালিকা প্রস্তুত ডিএনসি’র; গ্রেপ্তারে চলবে অভিযান নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অন্বেষন ও জ্ঞানের দুয়ার খুলে দিতে হবে -মেয়র

সাতকানিয়ায় স্বামীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ ১ অসহায় নারীর আর্তনাদ-সঠিক ও ন্যায় বিচারের প্রত্যাশায় দেখার যেন কেউ নেই

মোঃ মনজুর আলম (মনজুর) চট্টগ্রামঃ
  • প্রকাশিত : রবিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২১
  • ৮৬ জন দেখেছেন
দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ১০ নং জনার কেঁওচিয়া ইউনিয়নের বুরুমচরা এলাকার বাসিন্দা মৃত মোঃ আব্দুল খালেকের কন্যা ঝিনুক আক্তারের সাথে বিগত ৫ বছর আগে ৫ লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য করে একই এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ ইদ্রিছ  প্রকাশঃ বেলুর পুত্র মোহাম্মদ হানিফ (৩০) এর সাথে গত ২০/০২/২০১৬ ইং তারিখে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক সামাজিক ভাবে বিবাহ হয়। বিবাহের পর তাদের দাম্পত্য জীবন খুব ভালোই যাচ্ছিলো। বিবাহের ১ম বছর অতিক্রম হতেই তাদের কোল জুড়ে আসে ১ কন্যা সন্তান। পিতার নামের সাথে মিল রেখে তার নাম ফারজানা হানিফা মাহি রাখা হয়।
বৈবাহিক পরবর্তীতে তাদের উভয়ের দাম্পত্য জীবন সুখে,শান্তিতে অতিবাহিত হইলেও বৈবাহিক জীবনের কিছু কাল অতিক্রান্তে  স্বামী মোহাম্মদ হানিফ স্ত্রী ঝিনুক আক্তার’রের পরিবারের কাছ থেকে ১ লক্ষ টাকা যৌতুক দাবি করেন। কিন্তু অসহায় পরিবার টাকা দিতে অপারগ হওয়ার। পাষণ্ড স্বামী-স্ত্রী ঝিনুক আক্তারে’র উপর শারীরিক ও মানসিক ভাবে অত্যাচার শুরু করেন। বিগত ১৩/০৪/২০১৭ ইং তারিখে তাকে ঘর থেকে অমানসিক নির্যাতনের মাধ্যমে বের করে দেন।
পরবর্তীতে অসহায় ঝিনুক আক্তার এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিসহ জন প্রতিনিধি’দের ধারস্থ হয়ে ও কোন সঠিক সিদ্ধান্ত ও ন্যায় বিচার না পাওয়ায়। বিগত ১৫/০৬/২০১৭ তারিখে ১৯৮০ সালের যৌতুক নিরোধ আইনের (৪) ধারা মোতাবেক মামলা দায়ের করেন। যাহার মামলা নং-সি.আর ১৫৭/১৭ মামলাটি বিজ্ঞ আদালতে বিচারাধীন ছিলেন। মামলা চলাকালীন সময়ে পাষণ্ড স্বামী বিগত ১৭/০৮/১৭ ইং তারিখে ডিভোর্স দেন। পরে উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মাধ্যমে উভয় পক্ষ সমঝোতার জন্য একমত পোষণ করেন। যেহেতু উল্লেখিত ১৭/০৮/২০১৭ ইং হইতে ৩ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর উভয় পক্ষের সম্মতিক্রমে পুনরায় বিবাহ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
বিগত ১১/০৩/২০১৯ ইং তারা পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। পরবর্তীতে স্বামী-স্ত্রীর  কাছে কোন প্রকার যৌতুকের দাবি,শারীরিক, মানসিক, সঠিকভাবে ভরণপোষণ করিবে ও কোন প্রকার অত্যাচার করবে না মর্মে লিখিত ভাবে ৩ (তিনশত) টাকার স্ট্যাম্পে সাক্ষী  গনের সম্মুখে অঙ্গীকারনামা করেন। তাই বিগত ১১/০৩/২০১৯ ইং স্বামীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত সি.আর আপোষ কারণে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন। এ বিষয়ে ঝিনুক আক্তারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিবাহের পর থেকে আমি আমার বাবার বাড়িতে অবস্থান করতেছি।
সে (স্বামী) আমাকে তাদের বাড়িতে নিয়ে যাবে-যাবে বলে আজ নয় কাল এভাবে আশ্বাস দিতে থাকেন। কিন্তু কিছুদিন যাওয়ার পর সে আমার ও আমার মেয়ের কোন খোঁজ খবর নিচ্ছেন না। আমার ও আমার মেয়ের ভরণ পোষণ করছেন না। এরপর আমি দুঃখে কষ্টে খেয়ে না খেয়ে দিনযাপন করতে থাকি। কিছুদিন পরে আমাদের এলাকা থেকে একটা গাড়ী চুরি হয়।ওনি আমার(স্বামী) গাড়ী চুরির সাথে জড়িত ছিলেন বিদায় এলাকা থেকে বাঁশখালী পালিয়ে যান।
এরপর থেকে ওনি আমার ও আমার মেয়ের কোন খোঁজ খবর রাখেন নি। তাই আমি গত ১৮/০৮/২০২০ ইং আইনের শরণাপন্ন হয়ে ওনার (স্বামীর) বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এ মামলা দায়ের করি। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে বিজ্ঞ আদালত গ্রেফতারের আদেশ দেন। গত ২৩ জুলাই ২০২১ ইং তিনি গ্রেফতার হন। বর্তমানে সে জেল হাজতে রয়েছেন। এভাবে চলতে থাকে আমার সংসার।
খবর নিয়ে গত ১লা জুলাই জানতে পারি যে সে নিখোঁজ থাকা কালীন সময়ে বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ মোক্তার’রের মেয়ে রোকসানা আক্তার’ কে বিবাহ করেন। তিনি নিজেকে সেখানে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে পুনরায় আবার বিবাহ করেছেন বলে আমি জানতে পারি।
এ বিষয়ে আমি ঐ মেয়ের বাবা’র সাথে যোগাযোগ করে আমার একটা সংসার থাকা শর্তেও কেন? এমন কাজ করলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন। সে আমার মেয়েকে বিবাহের সময় নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়েছিলেন। তাই ঐ ছেলের সাথে আমার মেয়ের বিবাহ দিয়েছি। ঝিনুক আরো বলেন, আমি সাধনপুর এলাকার কাজীর সাথে যোযাযোগ করলে তিনি আমাকে বলেন, বিবাহের সময় সে (স্বামী) নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দেওয়াতে বিবাহ পড়ানো হয়েছিলো। এখন যেহেতু জানতে পারলাম এই বিয়ে বাতিল করা হবে।
আপনার বিশ্বাস না হলে আপনি এসে দেখে যেতে পারেন। তিনি আরো বলেন, প্রয়োজনে আমি আপনাকে লিখিত দিবো বলে আশ্বাস দেন। সেই কথা মতো আমি গত ১০ই আগস্ট (মঙ্গলবার) সাধনপুর কাজী অফিসের কাজী আবির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করি। তিনি আমাকে বলেন বিবাহ হয়েছিলো। কিন্তু সেটি পুণরায় বাতিল করা হয়েছে। লিখিত চাইলে তিনি বলেন, সমস্যা নেই আমি আপনাকে আমার অফিসিয়াল পেটে লিখে দিবো। তবে সময় লাগবে আপনি বিকেল ৫ টার পর করে আসেন। আপনি যেহেতু দূর থেকে এসেছেন কষ্ট হলেও ঘুরেফিরে থাকেন। আমি রেডি করে দিবো।
আপনি এখন যেতে পারেন। ৫ টার পরে আসেন। আমি ৫ টার দিকে যোগাযোগের চেষ্টা করলে মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।পরে অফিসের সামনের সাইনবোর্ড থেকে অপর একটি নাম্বার সংগ্রহ করে যোগাযোগ করলে। মোবাইল বন্ধ কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি নেটওয়ার্কের বাহিরে ছিলাম তাই মোবাইল বন্ধ ছিলো। তিনি বলেন আমি লিখিত দিতে পারবোনা। আপনি অন্য চেষ্টা করেন। লিখিত দিবেন বলে কেন এতোক্ষণ বসিয়ে রেখেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনার যা ইচ্ছে বলতে পারেন ও করতে পারেন। আমার কিছুই হবেনা। সর্বোচ্চ হলে কি হবে জানেন, আমি আদালতে গিয়ে কিভাবে বিয়ে হয়েছে। সেই কাগজপত্র গুলো নিয়ে হাজির হতে হবে যে। এ আর কি? তার চাইতে বেশি কিছুনা। কাজীদের কিছুই হয়না। কারো কপালে কি লিখা আছে নাকি বিবাহিত না অবিবাহিত। লিখিত দেওয়ার কোন নিয়ম নেই। আমি পারবোনা লিখিত দিতে। পরে নিরুপায় হয়ে সন্ধা ঘনিয়ে আসলে আমি চলে আসি।
এ বিষয়ে প্রতিবেদক মুটোফোনে ছেলের পরিবারের কাছে জানতে চাইলে ছেলের মা আনোয়ারা বেগম জানান, আমার ছেলে বিগত ৬ বছর ধরে আমাদের সাথে যোগাযোগ নেই। সে বাড়িতে আসেনা। আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানিনা বলে কল কেটে দেন।
এ বিষয়ে প্রতিবেদক মুটোফোনে বাঁশখালী সাধনপুর কাজী অফিসের কাজী আবির হোসেনের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত ১লা জুলাই সকল ডুকুমেন্ট পত্র দেখে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিবাহ হয়। বিবাহের ১৫/২০ দিন পর আমি জানতে পারি যে সে (হানিফ) বিবাহিত ও স্ত্রী- সন্তান রয়েছে। তাই সে যেহেতু প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে বিবাহ করেছেন। তাই বিবাহ টি আমাদের বালাম থেকে কেটে দেওয়া হয়েছে। সেই বিয়ে কার্যকর হয়নি বলে ও জানান। তিনি আরো বলেন, আপনি যেহেতু নিউজ করবেন। কাজী আবির হোসেনের জায়গায় কাজী মো: নুরুল আজীম নূরী দিয়েন। আমার আব্বা কাজী আমি কাজী না।
এ বিষয়ে অসহায় ঝিনুক আক্তার অশ্রু জড়িত কণ্ঠে আরো বলেন, স্বামী আবার ২য় বিবাহ করেছেন। বর্তমানে সে জেল হাজতে থাকলে ও তার পরিবার ২য় স্ত্রী কে ঘরে নিয়ে আসার আলোচনা করছেন এবং তাকে বিভিন্ন মাধ্যমে যেকোনো ভাবে জামিনে আনার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন। আমি এখন নিরুপায় ও অসহায় আমি আমার এলাকার স্থানীয় মান্যগণ্য ব্যক্তিবর্গ, এলাকার জনপ্রতিনিধি, মাননীয় সংসদ সদস্য প্রফেসর ডঃ আবু রেজা মোঃ নেজাম উদ্দিন নদভী’র এমপি ও অসহায় নারীদের শেষ আশ্রয় স্থল-নারী জাগরণের অগ্রদ্রুত ও বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি’র সদস্য রিজিয়া রেজা চৌধুরী সহ সাতকানিয়া উপজেলার প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ

সহযোগী প্রতিষ্ঠান

© All rights reserved © 2021 The Daily Bangladesh Shomachar
প্রযুক্তি সহায়তায় একাতন্ময় হোস্ট বিডি