1. admin@bangladeshshomachar.com : admin :
  2. mahadiislam.datasource@gmail.com : Mahadi Islam : Mahadi Islam
রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মাঝারি ও ছোটরা এখনো দুর্দিনে উপজেলা ও পৌরসভাগুলোকে শক্তিশালী করতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছেঃমুখ্য সচিব সরকার আইটি খাতকে গুরুত্ব দেয়ায় দেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে-মেয়র পরীর পাহাড়ের পরিবেশ সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের নির্দেশনা দেন মুখ্য সচিব বিশ্ব নেতৃবৃন্দের আমন্ত্রণেই প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে গেছেনঃ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ই-ট্রাফিক প্রসিকিউশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিআইজি আনোয়ার হোসেন চট্টগ্রামের মানুষের মঙ্গলের জন্য যা করা প্রয়োজন তাই করা হবেঃমুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস রংপুরে মাদক ব্যবসায়ীর ছুরিকাঘাতে পুলিশ কর্মকর্তা পিয়ারুলের মৃত্যু চট্টগ্রাম নগরীর কাট্টলীতে প্রস্তাবিত মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ ও যাদুঘরের স্থানপরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব সাড়ে তিন হাজার মাদক কারবারির তালিকা প্রস্তুত ডিএনসি’র; গ্রেপ্তারে চলবে অভিযান নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস অন্বেষন ও জ্ঞানের দুয়ার খুলে দিতে হবে -মেয়র

একজন ইউএনওর হাত ধরে বদলে যাওয়া একটি উপজেলা হাটহাজারী!

Reporter Name
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ৬ আগস্ট, ২০২১
  • ১৬০ জন দেখেছেন

কমল চক্রবর্তীঃ

হাটহাজারী উপজেলার সদ্য বিদায়ী ইউএনও মোঃ রুহুল আমিন। যিনি করো কাছে রবিনহুড আবার কারো কাছে হালদার অতন্দ্র পহরী। যার হাত ধরে বদলে গেছে পুরো উপজেলার চিএ। যিনি আরো কিছু দিন থাকলে হাটহাজারী বাসী আরো অনেক কিছুর সুফল ভোগ করতে পারত। তবে তিনি হাটহাজারী বাসীর মনে জায়গা করে নিয়েছেন নিজের অসংখ্য ভালো কাজের মধ্য দিয়ে।ত্রিপুরা পল্লীর উন্নয়ন , ত্রিপুরা পাড়ায় শিক্ষার আলো ছড়ানো , হালদাকে রক্ষায় রাত দিন ছুটে বেড়িয়েছেন, হালদার পাড়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর তৈরী, ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা, উপজেলায় ১৫ মিনিটের সেবা,মানবিক সেবা দান, গভীররাতে মাদ্রাসায় নির্যাতিত শিশুকে উদ্ধার ও তার ভরনপোষণ, অসহায় মানুষের কাছে যিনি ছিলেন রবিন হুড। হালদার বুকে চোরা শিকারীদের কাছে ছিল শিকারী ঈগল।

ত্রিপুরা পল্লীর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বাসিন্দাদের পল্লীকে আমূল বদলে দিয়ে ‘জনপ্রশাসন পদক ২০২০’ পেয়েছে হাটহাজারী ইউএনও কার্যালয়। হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ের পাদদেশে মনাই ত্রিপুরা পল্লীকে বদলে দেওয়ায় এ পদক দেওয়া হয়েছে। যার আন্তরিকতা ও ভালোবাসায় পূর্ণতা পেয়েছে ত্রিপুরা পল্লী। বিদায়ী মুহুর্তেও যিনি ছুটে গিয়েছিলেন সমাজে পিছিয়ে পরা এই জনগোষ্ঠীর মাঝে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে।

তিনি হাটহাজারী উপজেলার স্বন্দ্বীপ পাড়া বাতিঘরে যাওয়ার সড়কের কাজ শুরু করেছিলেন। বৃষ্টি, বদলি আর নানান কারনে কাজ শেষ হতে কিছুটা বিলম্ব হলেও । স্বন্দ্বীপ পাড়া বাতিঘরে যাওয়ার জন্য কাউকে কাঁদা মাড়াতে হবে না। পিচডালা রাস্তা দিয়ে সবাই চলাচল করবে। হয়ত অনেকেই স্মরণ করে বলবে এটা আমাদের টিনো সাব করে দিয়েছেন।

এটি আজ ওনার কাছে শুধুই স্মৃতি! হাটহাজারী বাসীর জন্য আরো কিছু করতে পারলে বা দিতে পারলে তিনি আরো বেশি উৎফুল্ল হতেন।কারন তার চাওয়া ছিল উপজেলার উন্নয়ন ও উপজেলা বাসির জন্য নিজেকে নিয়োজিত রাখা। যার প্রমান তিনি বদলীর আদেশ পাওয়ার পরও বসে না থেকে নিজেকে গুছিয়ে না নিয়ে শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত ছুটে বেড়িয়েছেন কাজের পিছনে।

হালদাকে রক্ষায় লাগিয়ে গেছেন সচেতনতার সাইনবোর্ড, ছুটে গেছেন ত্রিপুরা পল্লীর ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ছেলে মেয়েদের বই বিলাতে, প্রতিবন্ধী গুলজার বেগমকে দিয়েছেন হুইলচেয়ার, প্রদীপ নাথকে আয়ের সম্বল হিসাবে কিনে দিয়েছেন ভ্যানগাড়ি, যে কিনা বলেছিল আমি ত্রান চাইনা আমাকে একটা ভ্যান কিনে দেন, তাই করলেন কিনে দিলেন রুটি রুজির হাতিয়ার। প্রদীপ নাথকে হয়তো আর কোন দিন কারো কাছে হাত পাততে হবে না। দুখে দুখে অভাব ভোগ করতে হবে না। তিনি চাইলে বলতে পারতেন আমি আর নেই পরে যোগাযোগ করেন। তাতে কিন্তু দোষের কিছু থাকত না।

হ্যাঁ অনেকেই বলবেন এলাকার উন্নয়ন আর মানুষের কল্যাণের জন্য কি ওনি সারাজীবন এখানে পড়ে থাকবে? না সারাজীবন নয় আরো কিছুদিন থাকলে হয়তো ওই এলাকার মানুষ অনেক বেশি সুফল পেত। তিনি প্রমোশন পেয়েছেন ভালো এটা সকলের জন্য খুশির খবর। কিন্তু বড্ড বেশী তাড়াহুড়ো হয়েছে। অনেকটা অসময়ে ওনি বিদায় নিয়েছেন। একজন যাবে আরেকজন আসবে এটাই স্বাভাবিক। সরকারি চাকরি মানে বদলী থাকবেই। এটা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু অস্বাভাবিক হল কোন একজন ভালো মনের ও মানবিক মানুষকে হারাতে হয় বদলীর খোচায়। এই মানুষ গুলোর পিছনে অনেকেই কলকাঠি নাড়েন তাদের সরানোর জন্য। কারণ এমন লোকের বড্ড অভাব সমাজে। এরা নীতি আর আদর্শের সাথে কখনো আপোষ করে না। বদলী ওএসডি এসবে কিছু যায় আসে না। তাই হাতে গোনা এমন লোকদের সরাতে পারলে অনেকেই আখের ঘোচানোর সুযোগ পায়। রাস্ট্র সমাজ ও মানুষের কি ক্ষতি হল কেই বা যাচাই  করে দেখে? আর তাতে জনগন হারায় তাদের একজন ভালোবাসার মানুষ।

আর যাই হোক হাটহাজারীবাসী আপনাকে চিরদিন মনে রাখবে। আপনাদের মত লোকদের সমাজে ও প্রশাসনে বড়ই অভাব। তাই আপনাদের হারালে মানুষ কিন্তু অনেক কিছু হারিয়ে ফেলে। ওদের বুকের মধ্যে হাহাকার করে উঠে। প্রশ্ন জাগে মনে এমন মানুষ কি আর পাব?আপনি যেখানেই থাকুন ভালো থাকুন। আপনার জন্য শুভকামনা ও ভালোবাসা অবিরাম থাকবে। স্যালুট জানাই আমার প্রিয় রবিন হুডকে। পরমকরুনাময় আপনাকে সুস্থ ও সুন্দর জীবন দান করুক। আপনারা বেঁচে থাকলে গুলজার, প্রদিপ ও অসহায় মানুষরা বাঁচার ভরসা পাবে।

 

লেখকঃ কমল চক্রবর্তী -সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ও বিভাগীয় সমন্বয়কারী দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার ও দ্যা ডেইলী বাংলাদেশ ডায়েরী। চীফ নিউজ এডিটর-NewsUpdate24h.com

বিএস/কেসিবি /সিটিজি/৫ঃঃ৫৫পিএম

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ

সহযোগী প্রতিষ্ঠান

© All rights reserved © 2021 The Daily Bangladesh Shomachar
প্রযুক্তি সহায়তায় একাতন্ময় হোস্ট বিডি