1. admin@bangladeshshomachar.com : admin :
পরচর্চা কেন করে মানুষ?পরচর্চাকারী নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হন! - দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার
বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০৮:৩৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মাঝারি ও ছোটরা এখনো দুর্দিনে চট্টগ্রামে শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী পালিত সফেন প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক বহুমুখী শিল্পস্রষ্টা ড. খান আসাদুজ্জামান ও তাঁর সহধর্মিনী পুলিশ সুপার মাক্সুদা আকতার খানম পিপিএম-কে ঘিরে সুধী সমাবেশ ও সংবর্ধনা রাজশাহী মেডিকেলে একদিনে করোনা ভাইরাসে আরও ১৭ জনের প্রাণহানী পরীমনি ও রাজ মিলে গড়ে তোলেন অপরাধ সাম্রাজ্য;পরিমনি ও রাজসহ আটক ৪ নগরীতে জেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত;১৫৭ মামলায় ৯৯ হাজার টাকা জরিমানা সাংবাদিক আল রাহমানের বাবা চলে গেলেন না ফেরার দেশে পতেঙ্গায় তেল চোরাই চক্র সক্রিয়; ২ হাজার লিটার চোরাই তেলসহ আটক ৩ নেত্রকোণা পৌর ভূমি অফিসের পুরাতন ভবনটি ভুমি যাদুকর ঘোষণা- নতুন ভবন উদ্ভোদন   পিকআপে করে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে আসছিল দেড় কোটি টাকার ইয়াবার চালান ! বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল এর ৭২ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যালী

পরচর্চা কেন করে মানুষ?পরচর্চাকারী নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হন!

Reporter Name
  • প্রকাশিত : শুক্রবার, ১৬ জুলাই, ২০২১
  • ৪ জন দেখেছেন
Spread this news to

ওমর ফারুকঃ
পরচর্চা এমনই এক নেতিবাচক বৈশিষ্ট্য, যাতে যাঁর সমালোচনা করা হচ্ছে, শুধু তিনিই যে ক্ষতিগ্রস্ত হন এমন নয়, পরচর্চাকারী নিজেও ক্ষতিগ্রস্ত হন। মনে রাখতে হবে,পরচর্চাকারী কাউকে ছোট করে সাময়িকভাবে অন্যদের মনোযোগ আকর্ষণ করলেও তাঁরা কখনোই কারও শ্রদ্ধাভাজন ও বিশ্বস্ত হয় না। পরচর্চাকারী এগুলো জন্মগতভাবে পায় বা এগুলো শিখে তার পারিবারিক ও সামাজিক জীবন থেকে বিশেষত মা, বাবা,ভাইবোন, পরিবার ও ববন্ধুবান্ধব যারা এমন বৈশিষ্টের।তারা কোন ফ্যামিলি থেকে উঠে আসে মানুষ বুঝতে পারে অনায়াসে।সামাজিক জীবনেও তার সার্কেলটি এমনই হয়। অনেকের কাছ থেকে বাহবা বা মজা পেয়ে পরচর্চা বিষয়ে পান্ডিত্য লাভ করে। মূলত নিজেকে গর্ত থেকে তুলা,শাক দিয়ে মাছ ঢাকা,নিজের স্বার্থসাধন ও দোষত্রুটি ঢাকতে ও নিজের অবস্থান সৃষ্টিতে অন্যকে হেয় করে।

পরচর্চা কেন করে মানুষ? কোনো একজনের অনুপস্থিতিতে তাঁকে নিয়ে অহেতুকভাবে সবার কাছে ছোট করা, হেয় করা, মজা করা অথবা না জেনে একান্ত ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কথা বলা—সবই পরচর্চা। পরনিন্দা বা সমালোচনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট মানুষকে বারবার আলোচনার কেন্দ্রে রাখা। কোনো না কোনো কারণে গুরুত্বপূর্ণ বা চ্যালেঞ্জিং মনে করা। ব্যক্তির সাফল্য, দক্ষতা, আর্থিক বা সামাজিক অবস্থান, সৌন্দর্য, আত্মবিশ্বাস, জনপ্রিয়তা, সততা, নিশ্চিত পারিবারিক জীবনসহ নানা কিছু আমাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে। আড়ালে তাঁকে হেয় করার প্রবণতা তৈরি করতে পারে।খুব মোটা দাগে অন্যকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে আড্ডায় সবার মনোযোগ আকর্ষণ করা বা তথাকথিত স্মার্টনেস দেখানো উদ্দেশ্য হলেও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ অন্য কথা বলে।

এ ধরনের আচরণ মূলত প্রকাশ করে পরচর্চাকারীর অবচেতন মনের অন্তর্নিহিত অনিরাপত্তাবোধ ও হীনম্মন্যতাবোধ (গভীরে প্রথিত)। যাঁকে নিয়ে পরচর্চা করা হচ্ছে, তাঁর প্রতি সূক্ষ্ম বা স্থূল ঈর্ষা বা হিংসারও প্রকাশ ঘটে।এ রকম মনস্তত্ত্ব আমাদের মনে যে উদ্বেগ বা অস্বস্তি তৈরি করে, পরচর্চায় অন্যকে ছোট করার মাধ্যমে সেটা প্রশমনের একটা চেষ্টা চলে। আমাদের মনস্তত্ত্বের এই একধরনের অপরিপক্ব ‘ডিফেন্স’। সোজা কথায় বলা যায়, পরচর্চায় অন্যকে ছোট করার চেষ্টা করা হলেও ব্যক্তি মূলত নিজেকেই ছোট করেন এবং নিজের অপরিপক্বতা প্রকাশ করেন।এ ধরনের ত্রুটিপূর্ণ বৈশিষ্ট্য সাধারণত শৈশবে বেড়ে ওঠার সময়ই তৈরি হয়ে যায়। সন্তানের সামনে অন্যদের সমালোচনা করা, অসম্মান করা বা মজা করা, সন্তানকে হেয় করে কথা বলা ত্রুটিপূর্ণ বৈশিষ্ট্যের উদাহরণ।

আবার অন্যদের সঙ্গে নেতিবাচকভাবে তুলনা, স্কুলে সহপাঠীদের উত্ত্যক্ত করলে বন্ধুদের কাছ থেকে বাহবা পাওয়া, বেড়ে ওঠার সময় অন্যদের উত্ত্যক্ত করা বিষয়ে স্কুল বা পরিবার থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট মূল্যবোধ বা নির্দেশনা না থাকাও হীনম্মন্য করে ফেলে।পরচর্চা সামাল দেবেন কীভাবে? যে মানুষ আড়ালে আপনার পরচর্চায় মেতে আছেন, কোনো না কোনো কারণে আপনি তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ এবং উদ্বেগের কারণ। কাজেই তিনি যতই চৌকস বা সফল হোন না কেন, কোনো না কোনোভাবে আপনার চেয়ে পিছিয়ে আছেন।কোন না কোনভাবে তার দূর্বলতার কারণে তিনি নিজেকে সাধু সাজাতে আপনার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন।

যা করবেন—পেছনে আপনাকে নিয়ে কে কী বলে সেটা নিয়ে সময় নষ্ট না করে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করুন। সামাজিক মেলামেশা বাড়ান। মানুষকে আপনাকে জানার সুযোগ দিন।
নিজের ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলো আবার দেখুন এবং আস্থা রাখুন। পরচর্চাকারীর সঙ্গে দ্বন্দ্বে না জড়িয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্কের উষ্ণতা কমিয়ে দিয়ে তাঁকে বুঝিয়ে দিতে পারেন—এ ধরনের আচরণ আপনার কাছে গ্রহণযোগ্য না।

যা করবেন না—নিজেকে অন্যদের কাছ থেকে বা কাজ থেকে গুটিয়ে নেবেন না। অযাচিতভাবে নিজেকে সঠিক প্রমাণ করা থেকে বিরত থাকুন। প্রতিক্রিয়া হিসেবে পরচর্চাকারীর বিরুদ্ধে একই রকম আচরণে লিপ্ত হবেন না।মানসিক উলঙ্গতা আর উন্মাদনা একই সুতায় বাধা থাকলে জীবনে কেউ সুখীও হয়না উন্নতিও লাভ করেনা, অনেকে অনেক কিছুই হারায়।

লেখকঃ চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের স্টাফ অফিসার টু ডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক

বিএস/কেসিবি/সিটিজি/১০ঃ৪৯পিএম

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ

About Us

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ড. খান আসাদুজ্জামান
ঠিকানাঃ এম এস প্লাজা (৮তলা) ২৮সি/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, বা/এ, ঢাকা-১০০০
নিউজ সেকশনঃ ০১৬৪১৪২৮৬৭০
বিজ্ঞাপনঃ ০১৯৯৬৩০৩০৭১
মফস্বলঃ ০১৭১৫২২৮৩২২
ই-মেইলঃ bangladeshshomachar@gmail.com
ওয়েবসাইটঃ www.bangladeshshomachar.com
ই-পেপার: www.ebangladeshshomachar.com
© All rights reserved © 2021 The Daily Bangladesh Shomachar
প্রযুক্তি সহায়তায় একাতন্ময় হোস্ট বিডি