1. admin@bangladeshshomachar.com : admin :
পরিবর্তনের গল্প ও ইদুরে সমালোচনা! - দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার
সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৩:৩১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মাঝারি ও ছোটরা এখনো দুর্দিনে করোনা থেকে সুস্হ্য হয়ে ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যু বরণ করলেন ইঞ্জিনিয়ার ওয়াহিদুর রহমান হিরক ৮ মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারী চুরি করতে গিয়ে ধরা! শোক বার্তাঃ বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে; তবে ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা ছিল একদিন বের হবে : প্রধানমন্ত্রী করোনা প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহারের বিকল্প নেই: মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতি আটক দুই মডেল হচ্ছেন রাতের রাণী!মদ ও ইয়াবা খাইয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করতেন চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৮৫ গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান;মডেল পিয়াসার পর ইয়াবাসহ আটক মৌ আক্তার কল দিলেই বিনামূল্যে মিলবে আইসিইউ এম্বুল্যান্স সেবা হেলেনার বিপুল সম্পদের সন্ধান পেয়েছে র‍্যাব!

পরিবর্তনের গল্প ও ইদুরে সমালোচনা!

Reporter Name
  • প্রকাশিত : রবিবার, ১১ জুলাই, ২০২১
  • ৪ জন দেখেছেন
Spread this news to

মাহবুবুর রহমান রুমনঃ
সাজু বেগম। স্বামী সন্তান হারিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন বছর পঁচিশ আগে। মফস্বল শহরে ছুটা বুয়ার কাজ করতেন । নানান অসুখ-বিসুখ,গৃহকর্ত্রীর অকারণে অনাচার, নিপীড়ন সহ্য করতে না পেরে ফিরে এসেছেন নিজের গ্রামে। রাস্তার ধারে গাছের ডাল পাতা বাশ দিয়ে ঘিরে কোনমতে রাত্রিযাপন করেন।আর আকাশের দিকে তাকিয়ে ভাবেন আমার যদি মাথা গোঁজার কোথায় থাকতো।আকবর আলি। শরীরে অসুরের মতো বল থাকায়, ধান কাটার কাজে-কর্মে সবচেয়ে বড় বোঝাটা মাথায় নিতে পারার খ্যাতি ছিল। দু চার গায়ে আকবর কামলা নামে সবাই এক নামে চিনতো। একবার বিরাটকায় এক বোঝা কিভাবে যেন পায়ের উপর পড়ে যায় ।

তারপর থেকে সেই তাগড়া মানুষটি হারিয়ে যেতে থাকে আস্তে আস্তে। সব হারিয়ে তার জায়গা হয় গ্রামের স্কুলের বারান্দায়। তারও মনের কোণে আকুতি যদি নিজের একটু জায়গা থাকতো।বহু বছর পরে এসে যেন সরকার শুনতে পেল সাজু বেগম, আকবর আলীদের আকুতির কথা ।সরকার এক অনন্য পদক্ষেপ নিল। দেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে থাকা এমন সাজু, আকবর আলীদের বিনে পয়সায় দুই শতক জমি সহ একটি হাফ বিল্ডিং বাড়ি করে দিল। ইতোমধ্যেই ১ লাখ ১৮ হাজার নিঃস্ব, গরিব ,নামপরিচয়হীন সাজু, আকবর আলীকে ১ লাখ ১৮ হাজার বাড়ি করে দিয়েছেন সরকার। হাফ বিল্ডিং ঘরটিতে রয়েছে রঙিন টিনের ছাউনি ,দুইটি রুম,কিচেন,এটাস্ট বাথরুম। তাদের ঘরে আলো জ্বালানোর জন্য রয়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। রয়েছে সুপেয় পানির ব্যবস্থা। মাছ চাষের জন্য পুকুর খনন করে দেয়া হয়েছে অনেক জায়গায়।

নামহীন পরিচয়হীন মানুষদেরকে নিয়ে দেশের আনাচে-কানাচে গড়ে উঠেছে এক সমৃদ্ধ পরিকল্পিত জীবনব্যবস্থা।দেশের ভাসমান এইসব মানুষদের নিয়ে প্রতিটি জায়গায় যেন সম্পূর্ণ নতুন এক আলোকপল্লী গড়ে উঠেছে।এই এতকিছু করতে সরকারের তরুণ কর্মকর্তাদের বাজেট দেওয়া হয়েছে ঘর প্রতি মাত্র এক লাখ একাত্তর হাজার টাকা।দ্বিতীয় ধাপে সামান্য বেড়ে হয়েছে এক লাখ নব্বই হাজার।আপনি নিজে কি পারতেন এই অল্প বাজেটে এত কিছু করতে?নিজের বাড়ি করতে কত খরচ হয় সেটা চিন্তা করলেও মোটামুটি ধারণা পাবেন।কিন্তু এখানে তাদের প্রয়োজনীয় সব কিছুই দেওয়া হয়েছে। মানের সাথে কোন আপোষ করা হয়নি।কঠোর পরিশ্রমের ফলেই কেবল এটি সম্ভব হয়েছে। আন্তরিকতা ,ভালোবাসা ,কমিটমেন্ট না থাকলে কখনোই সম্ভব ছিল না। তাই সমালোচনা করার আগে দ্বিতীয়বার ভাববেন একটু। একবার ভেবেছেন যাদের কোন নাম,পরিচয় ছিলনা তারা এখন বসবাস করছেন ঝকঝকে তকতকে আলোকোজ্জ্বল ঠিকানায়? যা এখন সম্পূর্ন নিজের নামে?

প্রতিটি মানুষকে মালিকানা,কবুলিয়তও করে দেওয়া হয়েছে বিনামূল্যে।পৃথিবীর আর কোন দেশে,কখনো কি এমন নজির দেখা গেছে?একসাথে এই বিপুল পরিমাণ ছিন্নমূল মানুষকে হাফ বিল্ডিং বাড়ি কেউ কি করে দিয়েছে কোথাও?জায়গা জমি সহ?এমন একটি অনন্য কর্মের প্রশংসা করার মানসিকতাও কি আমরা দেখাতে পারিনা?১ লক্ষ ১৮ হাজার ঘরের মধ্যে সারাদেশে মাত্র ২১২ টি ঘর বিভিন্ন কারণে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এমন তো অস্বাভাবিক না ।বাংলাদেশে বোঝ-ক্ষমতা সম্পন্ন সকল মানুষই দেখে অভ্যস্ত যে বন্যার পানিতে দেশের রাস্তাঘাট কিভাবে ভেঙে যায়। এমনও দেখা যায় সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তার পিচ উঠে যায়।আশ্রয়নের এই কাজটি শুরু হওয়ার পর থেকে টানা পাঁচবার বন্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে।প্রায়ই ভারী বৃষ্টি হয়েছে টানা পাঁচদিন সাতদিন ধরে।

এই বৃষ্টির পানি পরে ১ লক্ষ ১৮ হাজার ঘরের মধ্যে মাত্র ২১২ টি ঘরের ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে।যা সংখ্যায় খুবই নগণ্য। তাও ভেঙেছে অতিবৃষ্টিতে। যাতে কারো হাত ছিলনা। এই ২১২ টি ঘরের সমস্যা নিয়েই আপনারা মাতামাতি শুরু করেছেন বাকি ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৯৮ টি ঘর যে করা হয়েছে সেগুলোকে উৎসাহিত করা তো বাকি রয়েছে।এটা একবারের জন্যও মনে আসা দরকার না?অবস্থা দেখে ইদুর শ্রেণীর প্রাণীর কথা মনে পরে যায়।তারা নাকি নিজের বাড়ন্ত দাতের আকৃতি ঠিক রাখতে যা পায় তাই কুটকুট করে কাটে।তেমনি আমরাও সব বিষয়ে সমালোচনা করতেই হবে যেন।এতগুলো ঘর যে করা হয়েছে সেটা করার জন্য কেউ স্থায়ী ভিটা বাড়ি তৈরি করে রাখেনি। বরং বহু নালা-নর্দমা ভরাট করে এই জায়গা করে দেয়া হয়েছে।

জায়গাও কেউ খালি করে রেখে দেয়নি তাদের জন্য।সবই ছিল রাঘব বোয়ালদের দখলে। আপনি নিশ্চয়ই এটিও জানতেন না এই কর্মযজ্ঞে অবৈধ দখলে থাকা তিন হাজার একরের বেশি জমি উদ্ধার করেছে সরকারের এক ঝাঁক তরুণ কর্মকর্তা।এটিকেও পজিটিভ দৃষ্টিতে দেখার আশা করতেই পারি? প্রশংসা নাই করলেন তথ্যটুকু অন্তত জেনে রাখুন।আর সমালোচনা করার আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন নিজে কতটুকু করতে পেরেছেন ?কতজন অসহায়ের সহায় হতে পেরেছেন? যারা এই কাজগুলো করেছে তারা আপনার মতই কারো ভাই ,কারো বোন। তারা কি এমন মহৎ কাজ করেও একটু উৎসাহ আশা করতে পারে না ?

লেখকঃ মাহবুবুর রহমান রুমন- সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট

বিএস/কেসিবি/সিটিজি/৮ঃ৩১পিএম

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ

About Us

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ড. খান আসাদুজ্জামান
ঠিকানাঃ এম এস প্লাজা (৮তলা) ২৮সি/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, বা/এ, ঢাকা-১০০০
নিউজ সেকশনঃ ০১৬৪১৪২৮৬৭০
বিজ্ঞাপনঃ ০১৯৯৬৩০৩০৭১
মফস্বলঃ ০১৭১৫২২৮৩২২
ই-মেইলঃ bangladeshshomachar@gmail.com
ওয়েবসাইটঃ www.bangladeshshomachar.com
ই-পেপার: www.ebangladeshshomachar.com
© All rights reserved © 2021 The Daily Bangladesh Shomachar
প্রযুক্তি সহায়তায় একাতন্ময় হোস্ট বিডি