1. admin@bangladeshshomachar.com : admin :
ক্রমেই ভয়ংকর রুপ নিচ্ছে করোনা; সচেতনতার বালাই নেই! - দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার
বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মাঝারি ও ছোটরা এখনো দুর্দিনে চট্টগ্রামে শহিদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭২তম জন্মবার্ষিকী পালিত সফেন প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক বহুমুখী শিল্পস্রষ্টা ড. খান আসাদুজ্জামান ও তাঁর সহধর্মিনী পুলিশ সুপার মাক্সুদা আকতার খানম পিপিএম-কে ঘিরে সুধী সমাবেশ ও সংবর্ধনা রাজশাহী মেডিকেলে একদিনে করোনা ভাইরাসে আরও ১৭ জনের প্রাণহানী পরীমনি ও রাজ মিলে গড়ে তোলেন অপরাধ সাম্রাজ্য;পরিমনি ও রাজসহ আটক ৪ নগরীতে জেলা প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত;১৫৭ মামলায় ৯৯ হাজার টাকা জরিমানা সাংবাদিক আল রাহমানের বাবা চলে গেলেন না ফেরার দেশে পতেঙ্গায় তেল চোরাই চক্র সক্রিয়; ২ হাজার লিটার চোরাই তেলসহ আটক ৩ নেত্রকোণা পৌর ভূমি অফিসের পুরাতন ভবনটি ভুমি যাদুকর ঘোষণা- নতুন ভবন উদ্ভোদন   পিকআপে করে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে আসছিল দেড় কোটি টাকার ইয়াবার চালান ! বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামাল এর ৭২ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে র‌্যালী

ক্রমেই ভয়ংকর রুপ নিচ্ছে করোনা; সচেতনতার বালাই নেই!

Reporter Name
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৮ জুলাই, ২০২১
  • ৭ জন দেখেছেন
Spread this news to

কমল চক্রবর্তীঃ
করোনা সংক্রমণে ক্রমেই ভয়ংকর রুপ নিচ্ছে। ছাড়িয়ে যাচ্ছে রেকর্ড। দেশে করোনার দৈনিক সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার ফের ঊর্ধ্বমুখী। এই পরিস্থিতিতে সরকার কঠোর বিধিনিষেধ দ্বিতীয় দফায় বাড়িয়ে ১৪ই জুলাই পর্যন্ত করেছে। মাঠে কঠোর অবস্থানে জেলা প্রশাসন। কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে মাঠে নামানো হয়েছে আর্মি ,র‍্যাব, বিজিবি ও আনসার। কিন্তু তাতে তেমন কোন প্রভাব পড়ছেনা জনজীবনে। জনসচেতনতার অভাবে অনেকটাই ঢিলেঢালা ভাবে পালিত হচ্ছে কঠোর বিধিনিষেধ। প্রধান প্রধান সড়কে কিছুটা কড়াকড়ি থাকলেও নগরীর অলিগলি ও বাজার গুলোতে একবারে বেসামাল অবস্থা। প্রশাসনের সাথে চলে ইঁদুর বিড়াল খেলা। মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। সব রকমের দোকানপাট খোলা, বাজার গুলোতে উপচে পড়া ভিড় লেগেই আছে। আর তাতে করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার আশংখা করছে সচেতন মহল। এর জন্য কতটুকু প্রস্তুত সরকার বা প্রশাসন? এদিকে করোনা’র লাগাম টানতে দেশে কারফিউ জারির পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

বিধিনিষেধের আওতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি -বেসরকারি অফিস আদালত ও গনপরিবহণ বন্ধ থাকলেও অলিগলি,বাজার, রাস্তাঘাট এবং বাজারে প্রচুর জনসমাগম দেখা যাচ্ছে। যা সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে চলে লুকোচুরি। অনেকেই জেনে বুঝে সরকারি নির্দেশ অমান্য করছে। অহেতুক বাজারে ঘোরাঘুরি করছে, অনেকেই খোলা জায়গায় ধূমপান করছে, হাত না ধুয়ে হোটেলের খাবার গ্রহণ করছে। মানুষের সচেতনতার অভাবে এসবই ডেকে আনতে পারে সমাজ, পরিবার তথা ব্যক্তি জীবনে এক চরম বিপর্যয়। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্কতার কোনো বিকল্প নেই।

কিন্তু এসব বিষয়ে আমাদের দেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। করোনা সংক্রমণ যে বাড়ছে তার জন্য অনেকে ভাইরাসের নতুন নতুন রূপান্তরকে যতটা দায়ী করছেন তার চেয়ে বেশি দায়ী করছেন মানুষের উদাসীনতা ও খামখেয়ালিপনাকে। বলা হচ্ছে, যেকোনো ভাইরাস টিকে থাকার জন্য তার রূপ পরিবর্তন করবে, এটাই স্বাভাবিক। এই পরিবর্তনের ফলে কখনো আরো শক্তিশালী হয়, কখনো আরো দুর্বল হয়ে পড়ে। করোনাভাইরাসও প্রতিনিয়ত তার রূপ বদল করছে। কিন্তু সে আগের চেয়ে আরো শক্তিশালী হচ্ছে ।তবে বাস্তব হলো গত বছরের চেয়ে এবারের ভাইরাস বেশি দ্রুততার সঙ্গে ছড়িয়ে পড়ছে। বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যুর হার। অনেক ক্ষেত্রে বর্তমান নতুন রুপের কোন লক্ষনই বুঝা যাচ্ছে না। যা চিন্তার বিষয়।

আমাদের দেশে মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়টি কোনো সময়ই তেমন গুরুত্ব পায়নি। বরং আগের চেয়ে এখন আরো বেশি উদাসীন। মাস্ক ছাড়া লোকজন ঘোরাফেরা করছে। গাদাগাদি করে বাজারে ভীর করা, রাস্তাঘাটে আড্ডাবাজি, বিয়ে শাদি সবি হচ্ছে প্রশাসনকে ফাকি দিয়ে। যারা টিকা নিয়েছেন তারা মানছে না স্বাস্থ্যবিধি। বেশীরভাগই ব্যবহার করছে না মাস্ক। অনেকেই আছে মাস্ক পড়েই খালাস। মানা হচ্ছে না শারিরিক দুরত্ব। এখন আর কেউ সুরক্ষিত নয়, প্রতিদিন বেশি বেশি আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রবল হয়ে উঠছে ।

করোনা শুরুর দিকে মানুষের মধ্যে যেরকম সচেতনতা ছিল তা এখন নেই বললেই চলে। ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে বারবার হাত ধোয়া, হাঁচি-কাশির সময় টিস্যু ব্যবহার করা, ব্যবহারের পর টিস্যু পেপারটি ধ্বংস করে হাত ধুয়ে নিয়ে নেওয়া এবং পানি পান করা , জ্বর, কাশি, হাঁচি এর লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া, জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত বাহিরে না যাওয়া ইত্যাদি বিষয়ে এখন মানুষের মধ্যে কোন সচেতনতা দেখা যায় না।

গত কয়েকদিনের করোনার পরিসংখ্যান দেখলে আঁতকে উঠার কথা। ছাড়িয়েছে শনাক্ত ও মৃত্যুর রেকর্ড। আজকে দেশে করোনায় গত ২৪ ঘন্টায় ১৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এপর্যন্ত মোট প্রাণহানি ঘটেছে ১৫,৭৯২ জনের। আজকে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩৬,৮৫০ জনের।  নতুন শনাক্ত হয়েছে ১১,৬৫১ জনের। গত ২৪ ঘন্টার পরীক্ষায় শনাক্তের হার ৩১.৬২% । এখন পর্যন্ত মোট শনাক্ত হয়েছে ৯,৮৯,২১৯ জন। গত ২৪ ঘন্টায় সুস্থ হয়েছে ৫,৮৪৪ জন। এপর্যন্ত মোট সুস্থ হয়েছে ৮,৫৬,৩৪৬ জন।

এ বিষয়ে ড. বিজন কুমার শীল গণমাধ্যমকে বলেছেন, সারাবিশ্বের করোনা সংক্রমণের স্ট্যাটাস দেখতে গিয়ে দেখি যে, হঠাৎ করে সংক্রমণ জাম্প করেছে। বিষয়টা নিয়ে বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে আলাপ করলাম। তারা বললেন, বাংলাদেশে সম্ভবত ব্রিটিশ ভ্যারিয়েন্টটা জানুয়ারি মাসেই আইসিডিডিআরবি শনাক্ত করেছিল। এই ভাইরাসটা বাংলাদেশে সমস্যা সৃষ্টি করার পর্যায়ে আছে আর কী। আমেরিকা, ইউরোপ, জার্মানিতেও এ ভাইরাস অধিকাংশ ক্ষেত্রে পাওয়া যাচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইন ডিরেক্টর ও মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেছেন, দেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের যে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, সে অনুযায়ী জুলাই মাসের সংক্রমণ গত জুন এবং এপ্রিল মাসকে ছাড়িয়ে যাবে। রোগীর সংখ্যা দিনদিন এভাবে বাড়লে সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। এমনকি অক্সিজেন সরবরাহেও চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। গতকাল বুধবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত করোনা বিষয়ক বুলেটিনে অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম এ কথা বলেন।

ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে পুরো মাসজুড়ে দেশে ২১ হাজার ৬২৯ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এপ্রিল মাসে সেই সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে ছিল। জুন মাসে এক লাখ ১২ হাজার ৭১৮ জন এবং জুলাই মাসের এখন পর্যন্ত মাত্র ছয়দিনে ৫৩ হাজার ১৪৮ জন রোগীকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা যদি অব্যাহত থাকে পরিসংখ্যান বিবেচনায় নিশ্চিতভাবে বলা যায় জুলাইয়ে রোগীর সংখ্যা জুন-এপ্রিল মাসকেও ছাড়িয়ে যাবে।

তিনি আরো বলেন, এ মাসের শুরুর দিকে সংক্রমণের যে পরিস্থিতি দেখেছি সপ্তাহের শুরুতে দেশে করোনা সংক্রমণের হার ছিল ২৫ শতাংশের কিছু বেশি। কিন্তু গতকাল শনাক্তের হার ৩১ দশমিক ৪৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। গত ২৯ জুন দেশে আট হাজার ৮২২ জনের করোনা শনাক্ত হয়, যেটি সপ্তাহের ব্যবধানে ১১ হাজার ছাড়িয়েছে।

নামজুল ইসলাম বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা একশর উপরে ঠেকেছে। গত ৩০ জুন দেশে ১১৫ জন মৃত্যুবরণ করেছিল। সেই সংখ্যা গত ১ জুলাই ১৪৩ জন, ২ জুলাই ১৩২ জন, ৩ জুলাই ১৩৩ জন করে ৬ জুলাই এসে ১৬৩ জনে পৌঁছেছে। এর আগের দিনও আমরা ১৬৪ জনের মৃত্যু দেখেছি। গতকাল পর্যন্ত দেশে ১৫ হাজার ৩৯২ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

করোনার ভয়াবহতা কাটাতে সবচেয়ে বড় প্রতিষেধক হচ্ছে সচেতনতা। লকডাউনের পর লকডাউন দিলেও তেমন ফল আসবেনা। যতক্ষণ না পর্যন্ত জনসচেতনতা তৈরি হবে। সবার মধ্যে গাছাড়া ভাব। আর এটাই সর্বনাশের মুল কারন হয়ে দাঁড়াবে। একটু অসচেতনতার জন্য পার্শ্ববর্তি দেশ ভারতকে চরম মূল্য দিতে হয়েছে। প্রতিদিন শতশত মুত্যু দেখেছে। এখনো পরিস্থিতি তেমন স্বাভাবিক বলা যায় না। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে সরকারকে অন্যভাবে ভাবতে হবে, একটা সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে হবে সরকারকে। এগুতে হবে কারফিউ জারির দিকে। প্রথমে এক সপ্তাহের জন্য পুরো দেশে কারফিউ জারি করা হোক কোন কিছুতে ছাড় না দিয়ে। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় অন্য সিদ্ধান্তে আসা যাবে। যেহেতু জনসচেতনতা নেই সেহেতু এটা ছাড়া সরকারের হাতে আর কোন বিকল্প নেই। আপাতদৃষ্টিতে সরকারের সমালোচনা নয় পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের প্রতিটি প্রদক্ষেপে সকলের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন।

লেখকঃ কমল চক্রবর্তীঃ সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় সমন্বয়কারী -দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার ও দৈনিক বাংলাদেশ ডায়েরি
চীফ নিউজ এডিটর- নিউজআপডেট২৪আওয়ার.কম

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ

About Us

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ড. খান আসাদুজ্জামান
ঠিকানাঃ এম এস প্লাজা (৮তলা) ২৮সি/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, বা/এ, ঢাকা-১০০০
নিউজ সেকশনঃ ০১৬৪১৪২৮৬৭০
বিজ্ঞাপনঃ ০১৯৯৬৩০৩০৭১
মফস্বলঃ ০১৭১৫২২৮৩২২
ই-মেইলঃ bangladeshshomachar@gmail.com
ওয়েবসাইটঃ www.bangladeshshomachar.com
ই-পেপার: www.ebangladeshshomachar.com
© All rights reserved © 2021 The Daily Bangladesh Shomachar
প্রযুক্তি সহায়তায় একাতন্ময় হোস্ট বিডি