1. admin@bangladeshshomachar.com : admin :
রোহিঙ্গাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া আমাদের জন্য কতটুকু নিরাপদ? - দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার
সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৩:৩৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মাঝারি ও ছোটরা এখনো দুর্দিনে করোনা থেকে সুস্হ্য হয়ে ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যু বরণ করলেন ইঞ্জিনিয়ার ওয়াহিদুর রহমান হিরক ৮ মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারী চুরি করতে গিয়ে ধরা! শোক বার্তাঃ বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে; তবে ষড়যন্ত্রের পেছনে কারা ছিল একদিন বের হবে : প্রধানমন্ত্রী করোনা প্রতিরোধে মাস্ক ব্যবহারের বিকল্প নেই: মোস্তারী মোরশেদ স্মৃতি আটক দুই মডেল হচ্ছেন রাতের রাণী!মদ ও ইয়াবা খাইয়ে আপত্তিকর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করতেন চট্টগ্রামে গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৯৮৫ গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান;মডেল পিয়াসার পর ইয়াবাসহ আটক মৌ আক্তার কল দিলেই বিনামূল্যে মিলবে আইসিইউ এম্বুল্যান্স সেবা হেলেনার বিপুল সম্পদের সন্ধান পেয়েছে র‍্যাব!

রোহিঙ্গাদের দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া আমাদের জন্য কতটুকু নিরাপদ?

Reporter Name
  • প্রকাশিত : সোমবার, ২৮ জুন, ২০২১
  • ০ জন দেখেছেন
Spread this news to

কমল চক্রবর্তীঃ

উখিয়া ক্যাম্প ও নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালাচ্ছেন রোহিঙ্গারা। আবার কখনো মাছ ধরার ট্রলারে নোয়াখালী-চট্টগ্রাম হয়ে আবার তারা কক্সবাজারের উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফেরত যাওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছেন। আবার কেউ পালিয়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছেন দেশের বিভিন্ন স্থানে। দালালরা টাকার বিনিময়ে তাদের পালাতে সহায়তা করছে। অনেক অসাধু জনপ্রতিনিধি তাকার বিনিময়ে তাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন জাতীয়তা সনদ। যা আমাদের জাতীয় জীবনে হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। দিন দিন এরা জড়িয়ে যাচ্ছে মাদকসহ ভয়ংকর সব অপরাধে। জানা গেছে মায়ানমার থেকে আসা ইয়াবার বেশির ভাগ চালান রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পাচার হয়। রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বিশাল অংশ জুড়ে ইয়াবার ছড়াছড়ি।

শরণার্থী হিসাবে আশ্রিত মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের নিয়ে দেশে বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এরা শরণার্থী শিবির থেকে পালিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। জড়াচ্ছে শিশু চুরিসহ নানা সামাজিক অপরাধে। কোথাও কোথাও তারা আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রোহিঙ্গাদের ঘিরে এক শ্রেণির দালাল গোষ্ঠীও গজিয়ে উঠেছে। তারা বাংলাদেশের জাল পাসপোর্ট তৈরি, নাগরিকত্ব প্রদান, বিদেশে বৈধ বা অবৈধভাবে পাচার করা ছাড়াও রোহিঙ্গাদের শিশু চুরির কাজে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশের পক্ষে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়া নিঃসন্দেহে মঙ্গলজনক নয়। এ বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর উপস্থিতির কারণে একদিকে যেমন আমাদের আর্থসামাজিক ও পরিবেশ-প্রতিবেশগত সমস্যা হচ্ছে, অপরদিকে কখনো তারা নিজেরা দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়ছে; এ কারণে অনেক সময় খুনের ঘটনাও ঘটছে। এদিকে রোহিঙ্গারা প্রায়ই ক্যাম্প থেকে পালিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া অনেকেই পালিয়ে অথবা কোনোভাবে বাংলাদেশি পাসপোর্ট জোগাড় করে বিদেশে গিয়ে ধরা পড়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে।

কিন্তু এ শরণার্থী সংকটের প্রায় চার বছর হতে চললেও তাদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার সরকার অথবা আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না, বরং বিষয়টি কেবল আলোচনার টেবিলেই ঘুরপাক খাচ্ছে। তাই প্রশ্ন, প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে আর কতকাল অপেক্ষা করতে হবে? সম্প্রতি নিউইয়র্কে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত ক্রিস্টিন বার্গনারের সঙ্গে আলোচনাকালে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার তাগিদ দেন। বলা বাহুল্য, ১০ লক্ষাধিক শরণার্থীর প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শেষ করতে কতদিন বা বছর লাগবে, সেই অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার সময় সরকারের পক্ষ থেকে হোটেল, রাস্তা, যানবাহনে সার্বক্ষণিক নজরদারি ও তল্লাশির ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা অনেকটাই শিথিল। এ সুযোগে এক শ্রেণির দালাল গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের নিয়ে বৈধ-অবৈধ বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড শুরু করে দিয়েছে।

ইদানীং দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিনিয়ত রোহিঙ্গা আটকের খবর পাওয়া যাচ্ছে। কাজের খোঁজ ছাড়াও শরণার্থী শিবিরের মানবেতর জীবন থেকে মুক্তি পেতে ও ধনী হওয়ার আশায় স্থানীয় দালাল চক্রের সহযোগিতায় বিদেশ পাড়ি দেওয়ার ইচ্ছায় অনেক রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়ে যাচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া রোহিঙ্গারা মাঝেমধ্যে আটক হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দালালরা ধরা ছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনও বাস্তবায়ন হয়নি।

জানা গেছে, রোহিঙ্গারা যাতে দেশের মূল জনস্রোতে মিশে যেতে না পারে সেজন্য টেকনাফ থেকে উখিয়া পর্যন্ত বসানো হয়েছে বেশ কয়েকটি চেকপোস্ট। পুলিশ, বিজিবি ও অন্যান্য সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এসব চেকপোস্টে তল্লাশি চালান। তবে এত সতর্কতার পরও রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে পড়ছে অন্যান্য এলাকায়। জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন পেশায়। উখিয়ার ফলিয়া পাড়া সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ভোরে রোহিঙ্গাদের কাজের সন্ধানে বের হতে দেখা যায়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এক শ্রেণির সদস্য টাকার বিনিময়ে তাদের অবাধে বাইরে যেতে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় দোকানিরা জানান, রোহিঙ্গারা আসার পর বোরকার বিক্রি বেড়ে গেছে। ক্যাম্পের নারীরা বোরকা পড়েন। বোরকা পড়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাওয়ার সুবিধা আছে।

বিভিন্ন সময় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা আটকঃ
বিভিন্ন সময় পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা আটক হলেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে অনেকই ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। বিগত কয়েক মাসে বেশ কিছু রোহিঙ্গা আটকের খবর পাওয়া গেছে। মে মাসে ১৫ দিনে ১৬ জন রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ভাসানচর থেকে পালিয়েছে। তার মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে ১৪ জন। দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে নোয়াখালীতে একজন এবং চট্টগ্রামের মিরসরাই থেকে দালাল চক্রের তিন জনকে আটক করা হয়েছে। ২২ জুন মঙ্গলবার বিকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর এলাকার স্লুইস গেট এলাকা থেকে ১৪ রোহিঙ্গা আটক করা হয়েছে। সন্ধ্যানাগাদ পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে আসে। ৩০ মে ভাসানচর থেকে পালানোর সময় উপজেলার ইছাখালি ইউনিয়নের চরশরত এলাকা থেকে শিশুসহ ১০ রোহিঙ্গা ও তিন দালালকে আটক করেছে উপজেলার জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।

কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসা ৩১ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী থানা পুলিশ। গতকাল ২৬ জুন শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। মে চট্টগ্রামের ভাষানচর থেকে সন্দ্বীপে পালিয়ে আসার সময় ১৪ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। তারা নোয়াখালীর ভাসানচর থেকে পালিয়ে কক্সবাজারের টেকনাফের কুতুপালং যাওয়ার চেষ্টা করছিল।এর আগে ১৮ মে ১১ জন রোহিঙ্গাকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের রহমতপুর থেকে আটক করা হয়েছিলো।১৮ সেপ্টম্বর বাংলাদেশী পাসপোর্ট নিয়ে অবৈধভাবে সৌদি আরবে যাওয়ার চেষ্টা করলে আজ ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৬ জন রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। কক্সবাজারের টেকনাফে বাহারছড়া বড়ডেইল সমুদ্রসৈকতে তীরে দালালসহ মালয়েশিয়াগামী ৩০ রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সদস্যরা। মঙ্গলবার ২৭ এপ্রিল সকাল ৭টায় বাহারছড়া ইউনিয়নের বড়ডেইল সমুদ্রসৈকত এলাকা থেকে মাছ ধরার ট্রলারসহ তাদের আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে চারজন শিশু, চারজন পুরুষ দালাল এবং বাকিরা নারী।নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে কক্সবাজার যাওয়ার পথে ১২ জন রোহিঙ্গাকে ধরে পুলিশের কাছে সোর্পদ করেছে স্থানীয়রা। শুক্রবার ১১ জুন সকালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতদের মধ্যে পুরুষ ছাড়াও চার জন করে নারী ও শিশু রয়েছে।

এ ছাড়া বিদেশে পাচারকালে মহেশখালী, বাঁশখালী ও শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়েছে আরও অন্তত শতাধিক রোহিঙ্গা। এর আগেও বহুবার দেশের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে পালিয়ে বেড়ানো অনেক রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে আটক করা হয়েছে।

সূত্রমতে, সাধারণভাবে ধরা পড়লে ক্যাম্পে ফেরত্ পাঠানো হলেও ইয়াবা নিয়ে ধরা পড়লেই শুধু রোহিঙ্গাদের জেল হাজতে পাঠানো হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে যেসব রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কেন আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, ক্যাম্পের রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে গত বছরের জুন থেকে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করে জাতিসংঘ। এপর্যন্ত আড়াই লক্ষ রোহিঙ্গাকে পরিচয়পত্র দিয়েছে সংস্থাটি। বাকিদের পরিচয়পত্র প্রদানের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।

রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ ও তাদের বর্তমান সংখ্যাঃ
বাংলাদেশ সর্বপ্রথম শরণার্থী গ্রহণ করে ১৯৭৮ সালে। তখনও প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী তৎকালীন বার্মিজ সরকার ও তাদের সামরিক-আধাসামরিক বাহিনীর অত্যাচার থেকে বাঁচতে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়ার বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় গ্রহণ করে। যদিও দুবছরের মধ্যে তারা নিজ দেশে প্রত্যাবর্তন করতে সক্ষম হয়; কিন্তু ১৯৯১ সালের শেষাংশে এবং ১৯৯২ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত আবারও প্রায় ২ লাখ ৬৫ হাজার শরণার্থী একই কারণে সীমান্ত অতিক্রম করে কক্সবাজারের টেকনাফ ও উখিয়া এবং বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ২২টি শিবিরে আশ্রয় গ্রহণ করে। এদের অধিকাংশ দুবছরের মধ্যে প্রত্যাবর্তন করলেও নানা জটিলতায় প্রায় ৩০ হাজার শরণার্থী কুতুপালং ও নয়াপাড়া ক্যাম্পে থেকে যায়।

এদিকে ২০১৬ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে ছোট আকারে শরণার্থী মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পাড়ি দিতে থাকে, যা ২৫ আগস্ট ২০১৭ চূড়ান্ত আকার ধারণ করলে সারা বিশ্ব যখন উদ্বিগ্ন, তখনই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর মহানুভবতায় তাদের কক্সবাজারে আশ্রয় দেওয়া হয়। আমাদের মনে আছে, তখন সারা দেশ থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন এসব অসহায় মানুষের জন্য সাহায্য নিয়ে ছুটে আসে কক্সবাজারে। সেই থেকে সারা বিশ্বে বাংলাদেশ পরিচিতি পায় নতুন পরিচয়ে-‘মানবিক বাংলাদেশ’। বর্তমানে ৩৪টি ক্যাম্পে ১০ লক্ষাধিক শরণার্থীর অবস্থান, যা বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী ক্যাম্প হিসাবে পরিচিত, যদিও জানুয়ারি ২০২১-এর পরিসংখ্যান অনুসারে এ সংখ্যা ৮,৭১,৯২৪। বাংলাদেশ সরকার অবশ্য এদের ‘বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক’ বা এফডিএমএন হিসাবে অভিহিত করেছে।

কি নেই ভাসানচরে?
বিশ্বের কাছে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় ভাসান চরে রোহিঙ্গাদের জন্য গড়ে তোলা হয়েছে নিরাপদ আবাসন ব্যবস্থা। যার নজির পৃথিবীতে নেই।
উখিয়া-টেকনাফের ওপর চাপ কমাতে এবং শরণার্থীদের অধিকতর উন্নত পরিবেশ দিতে সরকার নোয়াখালীর ভাসানচরে এক লাখ শরণার্থীকে স্থানান্তরের জন্য স্থাপনা তৈরি করেছে, যেখানে ইতোমধ্যে প্রায় ১৮ হাজার শরণার্থীকে স্থানান্তর করা হয়েছে। আপতদৃষ্টিতে বিচ্ছিন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ দ্বীপ মনে হলেও গত ১৫০ বছরের আবহাওয়া ও দুর্যোগকে বিবেচনায় রেখে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দ্বীপটিকে শরণার্থীদের জন্য সাজানো হয়েছে। সাইক্লোন বা জলোচ্ছ্বাস থেকে নিরাপদ থাকতে ১৮ ফুট উঁচু গাইডবাঁধ নির্মাণ করা হচ্ছে। যদিও জাতিসংঘ সংস্থাগুলো (ইউএনএইচসিআর, ডব্লিউএফপি, ডব্লিউএফও, আইওএম ইত্যাদি) এ স্থানান্তরের সঙ্গে এখনো সম্পৃক্ত হয়নি। একটি প্রতিনিধিদলের প্রধান হিসাবে সম্প্রতি দ্বীপটি ভ্রমণ ও শরণার্থীদের সুযোগ-সুবিধা দেখার সুযোগ হয়। কক্সবাজারে অবস্থিত ক্যাম্পের নির্মাণ কাঠামো (মূলত বাঁশের বেড়া দিয়ে তৈরি) এবং শরণার্থীদের সুযোগ-সুবিধা তুলনা করলে ভাসানচর অনেক উন্নত। কী নেই সেখানে? আছে কংক্রিট দিয়ে তৈরি ব্যারাক, প্রতি পরিবারের জন্য প্রশস্ত জায়গা, আদর্শ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধা, নিজ ঘরের সামনে অথবা আঙিনায় হেঁটে চলা বা ঘুরে বেড়ানোর পর্যাপ্ত স্থান, কেউ চাইলে ঘরের সামনে খালি জায়গায় শাকসবজিও চাষ করতে পারা, বাচ্চাদের খেলাধুলার সুবিধা, এমনকি বড়দের জন্য বিরাট ফুটবল মাঠ। তথাপি সেখানে থাকা শরণার্থীদের মধ্যে কিছুটা অতৃপ্তি রয়ে গেছে; এই যেমন, তাদের পরিবারের অনেকেই এখনো কক্সবাজারে রয়েছে, কেউবা বঞ্চিত হচ্ছে জীবিকায়নের সুবিধা থেকে; কারণ সাহায্য সংস্থা থেকে মৌলিক ত্রাণ পেলেও সবার চাই কিছু নগদ টাকা, পরিবারের অন্যান্য চাহিদা মেটানোর জন্য যে সুযোগ সেখানে সীমিত। কেবল যাদের মাছ ধরার অভিজ্ঞতা রয়েছে, তারাই অনুমতি নিয়ে নদীতে মাছ শিকারে যেতে পারছে। কেউবা অলস থেকে হাঁপিয়ে উঠেছে।

ভাসানচরে শরণার্থীদের জন্য স্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধা আন্তর্জাতিক মানসন্মতঃ
এ প্রসঙ্গে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দায়িত্বে থাকা শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) শাহ্ রেজওয়ান হায়াত (অতিরিক্ত সচিব) ভাসানচরে মানবিক সহায়তায় সম্পৃক্ত সংস্থাগুলোকে সেখানে অবস্থানকারীদের অধিক জীবিকায়ন (লাইভলিহুড) কার্যক্রম গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন। তথাপি অনেকেরই ধারণা, জাতিসংঘ এখানে সম্পৃক্ত না হলে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো তাদের সহায়তা পূর্ণাঙ্গরূপে সম্প্রসারণ করতে পারবে না, যদিও রেড ক্রিসেন্টসহ প্রায় ৩০টি এনজিও সরকারের পাশাপাশি কাজ করছে। তবে আশার কথা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার একটি বড় প্রতিনিধিদল গত মার্চে ভাসানচর ভ্রমণ করেছে। সবশেষ জুনের শুরুতে ইউএনএইচসিআর-এর দুজন শীর্ষ কর্মকর্তা (সহকারী হাইকমিশনার) মি. রাওফ মাজু ও মিজ গিলিয়ান ট্রিগস কক্সবাজার ও ভাসানচর পরিদর্শন করেছেন। তাদের সঙ্গে স্থানীয় এক হোটেলে আয়োজিত প্রাতরাশ সভায় (ব্রেকফাস্ট মিটিং) আমার অংশগ্রহণের সুযোগ হয়েছিল। আলাপ প্রসঙ্গে রাওফ মাজু ভাসানচরে শরণার্থীদের জন্য স্থাপনা ও সুযোগ-সুবিধা দেখে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। পরে তারা ঢাকায় ফিরে সরকারের সঙ্গে মতবিনিময়কালে ভাসানচর নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। আশা করা যাচ্ছে, ইউএনএইচসিআর তথা জাতিসংঘ সেখানে সম্পৃক্ত হলে যে সীমাবদ্ধটুকু রয়েছে তা আর থাকবে না। অবশ্য বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হওয়ায় সেখানে যাতায়াতের (মানুষ, ত্রাণসামগ্রী পরিবহণ) একটি অন্তরায় থেকেই যাচ্ছে।

কেন পালাচ্ছে রোহিঙ্গারাঃ
স্থানীয় মানুষের উস্কানি ও দালালদের দারা প্রভাবিত হয়ে ক্যাম্প ছেড়ে পালাচ্ছে। মূলত কাজের সন্ধানে এবং আরও উন্নত জীবন যাপনের আশায় ক্যাম্পের জীবন থেকে মুক্তি পেতে তারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। স্থানীয় দালাল চক্রের সহযোগিতায় রোহিঙ্গাদের একটি অংশ বিদেশ পাড়ি দিতে কৌশলে ক্যাম্প ছেড়ে যাচ্ছে। তবে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়া রোহিঙ্গারা মাঝেমধ্যে আটক হলেও দালালরা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে।

জানা গেছে, রোহিঙ্গারা যাতে দেশের মূল জনস্রোতে মিশে যেতে না পারে সে জন্য টেকনাফ থেকে উখিয়া পর্যন্ত বসানো হয়েছে বেশ কয়েকটি চেকপোস্ট। পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও অন্যান্য সংস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এসব চেকপোস্টে তল্লাশি চালান। রোহিঙ্গাদের অবাধ যাতায়াত রোধ করতে স্থানীয়দের যাতায়াতের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে চলাচল করতে হয়। এত সতর্কতা সত্ত্বেও রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের নানা প্রান্তে। জড়িয়ে পড়ছে সামাজিক ও অসামাজিক পেশায়। প্রতিদিন ভোরে রোহিঙ্গা নারী-পুরুষের অনেকে কাজের সন্ধানে ক্যাম্প থেকে বের হন। সন্ধ্যা বা রাতে কেউ ফেরেন কেউ ফেরেন না এমনটাই জানালেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। যারা ফিরে আসেন না তারা দূরপাল্লার কোনো বাসে বা ট্রাকে চেপে বসেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এক শ্রেণির সদস্য টাকার বিনিময়ে তাদের বাইরে যেতে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া অরক্ষিত ক্যাম্পগুলোতে ন্যূনতম কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কথা থাকলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। সুত্রে জানা যায়, তাদের নিজেদের কিছু লোক এবং স্থানীয় কিছু বাঙালি মিলে ক্যাম্প ছাড়ার ইন্ধন দিয়ে থাকে। তারা দেশের ভিতরে ভালো বেতনের চাকরি ও কম টাকায় বিদেশে গিয়ে উন্নত জীবন ধারণের প্রলোভন দেখিয়ে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প থেকে বের করে। এতে কেউ কেউ নিজেদের জমানো টাকা-পয়সা ও সহায়-সম্বলের বিনিময়ে চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ক্যাম্পের বাইরে গিয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন। প্রতারিত হয়ে আটকের পর শূন্য হাতেই তাদের আবার ক্যাম্পে ফিরতে হচ্ছে। দালাল চক্র মালয়েশিয়া, দুবাই, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, জাপান ও শ্রীলঙ্কায় ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এদের খপ্পরে পড়ে অনেক রোহিঙ্গা দ্বিতীয়বারের মতো নিঃস্ব হচ্ছে। আবার কোনো কোনো রোহিঙ্গা বাংলাদেশি পাসপোর্ট বানিয়ে বিদেশে গিয়ে নানা অপরাধকর্মে যুক্ত হয়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে। এতে শ্রমবাজারে বাঙালিদের সুনাম ক্ষুণ হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

পরিশেষে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প গুলোতে কঠোর গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয় দালাল ও অসাধু জনপ্রতিনিধি  দের কঠোর আইনের আওতায় আনা এবং স্থানীয়দের উস্কানি রোধ করা না গেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে রোহিঙ্গাদের ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যাবে না। আর রোহিঙ্গাদের ছড়িয়ে পড়া রোধ করা না গেলে দেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। জাতীয় নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। অসাধু স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় এদের অনেকেই টাকার বিনিময়ে বিদেশ পাড়ি দিচ্ছে। আবার অনেকে মুল জনস্রোতে মিশে যাচ্ছে এবং যাবে। যা কোনভাবেই রাস্ট্রের জন্য মঙ্গলজনক নয়। মায়ানমারের সাথে কূটনৈতিক চাপ বজায় রেখে ও আন্তর্জাতিক ভাবে চাপ প্রয়োগ করে রোহিঙ্গাদের সেই দেশে ফেরত পাঠানোর কোন বিকল্প নেই। তবে আপাত দৃষ্টিতে তাদের সেই দেশে ফেরত পাঠানো তেমন সহজ হবে না। এর জন্য সরকারকে অনেক কাঠ খড় পোহাতে হতে পারে।

লেখকঃ কমল চক্রবরতিঃ সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ও বিভাগীয় সমন্বয়কারী (চট্টগ্রাম বিভাগ) দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার- দ্যা ডেইলী বাংলাদেশ ডায়েরী ও মাসিক অপরাজেয় বাংলাদেস।
চীফ নিউজ এডিটর- নিউজ আপডেট২৪ আওয়ার
.কম

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ

About Us

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ড. খান আসাদুজ্জামান
ঠিকানাঃ এম এস প্লাজা (৮তলা) ২৮সি/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, বা/এ, ঢাকা-১০০০
নিউজ সেকশনঃ ০১৬৪১৪২৮৬৭০
বিজ্ঞাপনঃ ০১৯৯৬৩০৩০৭১
মফস্বলঃ ০১৭১৫২২৮৩২২
ই-মেইলঃ bangladeshshomachar@gmail.com
ওয়েবসাইটঃ www.bangladeshshomachar.com
ই-পেপার: www.ebangladeshshomachar.com
© All rights reserved © 2021 The Daily Bangladesh Shomachar
প্রযুক্তি সহায়তায় একাতন্ময় হোস্ট বিডি