নোয়াখালী বেগমগঞ্জ যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় ভুক্তভোগী পরিবারকে উল্টো মিথ্যা মামলায় হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

এইচ.এম আয়াত উল্যা, নোয়াখালী প্রতিনিধি

: বখাটেদের উৎপাত, অশ্লীল আপত্তিকর প্রস্তাব ও যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার আলাইয়াপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড রামপুর গ্রামের ভুক্তভোগী এক অসহায় পরিবারকে উল্টো ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্য মামলাা দিয়ে পুলিশি হয়রানি করছে একই এলাকার সন্ত্রাসীরা। শনিবার সকালে এর প্রতিবাদে জেলা শহর মাইজদীতে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে ভুক্তভোগী আবুল বাসার রতœা বেগম ও রাহেলা বেগম। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী আবুল বাসার (৫২) জানান, আলাইয়াপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের রামপুর গ্রামের আমাদের প্রতিবেশী যুগী বাড়ির অজি উল্যা মিন্টুর ছেলে মো. হামজা (২৮), আনোয়ার হোসেনের ছেলে রাহুল (২৫), আবদুর রহিমের ছেলে মো. রাহি (২৪), মৃত মজিবুল হকের ছেলে আবদুল মতিন (৪৫), মৃত আবদুর রশিদের ছেলে মো. ইউসুফ (৪০), মো. জহিরের ছেলে ফরহাদ (২৩), মৃত দুলু মাষ্টারের ছেলে আবদুর রহিম (৪৫), অজি উল্যা মিন্টুর স্ত্রী আমেনা বেগম (৫৫) স্থানীয় এলাকার বিবাহিত নারীদের নির্যাতন, যুবতী মেয়েদের অশ্লীল আপত্তিকর প্রস্তাব দিয়ে উত্যক্ত করা এবং অসহায় নারীদের যৌন হয়রানি করে আসছে। কিন্তু কেউ ভয়ে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায় না। আমার মেয়ে রতœা বেগম গত দুই বছর ধরে আমার বাড়িতে বসবাস করছে আসছে। এলাকার নারী উত্যক্তকারী বখাটে ও সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত হামজা, রাহুল, রাহি, আবদুল মতিন, ইউসুফ, ফরহাদ, আবদুর রহিম আমার মেয়েকে দীর্ঘ দিন ধরে পথে-ঘাটে অশ্লীল ও আপত্তিকর কথা বলে উত্যক্ত করতো। একপর্যায়ে তারা আমার মেয়েকে যৌন হয়রানি করে। এতে আমরা থানায় মামলা করার পর উল্টো আসামীরা আমাদের বিরুদ্ধে আরো ক্ষিপ্ত হয়ে বসতঘরে হামলা-ভাংচুর, লুটপাট ও ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা মামলা দিয়ে পুলিশি হয়রানি করছে। তিনি আরো জানান, সন্ত্রাসীরা গত ২১ এপ্রিল বিকেলে আমার মেয়ে রতœা বেগম বসত বাড়ির পশ্চিম পাশের পুরাতন বাড়ি থেকে নলকূপের পানি নিয়ে আসার সময় গেইটের সামনে হামজা, রাহুল, রাহি আমার মেয়ে তাকে বিভিন্ন অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিতে উত্যক্ত করে। বিষয়টি সে আমাদের অবগত করলে আমরা ওইদিন সন্ধ্যায় অভিভাবকের কাছে নালিশ করি। এতে আসামীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে রাতে আমার বাড়িতে এসে আমাকে না পেয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে। এতে আমার স্ত্রী রাহেলা বেগম ও মা সামছুন নাহার প্রতিবাদ করলে তাদেরকে বেদম মারধর করে। একপর্যায়ে হামজা, রাহুল, রাহি আমার স্ত্রী রাহেলার শ্লীলতাহানী করে। আমি বাড়িতে এসে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে আসামীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার পর আসামীরা ও তাদের সহযোগী অজ্ঞাত নামা ৩-৪ জন পুনরায় ওইদিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে আমার বসত বিল্ডিং দৌতলায় এসে ষ্টীলের দরজা ভেঙ্গে রুমে প্রবেশ করে বসত বিল্ডিংয়ের ভিতরে থাকা ষ্টীলের আলমিরা, কাঠের চেয়ার, টেবিল, সোফা সেট, জানালার থাই গøাস ইত্যাদি কুপিয়ে ও পিটিয়ে ভাংচুর করে এক লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে। আমি ও আমার পরিবারের লোকজন তাদের বাধা দিলে আমাদেরকে ব্যাপক মারধর করে। এসময় মো. ইউসুফ আমার স্ত্রী রাহেলার গলায় থাকা ৮আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ও ৩০ হাজার টাকা, হামজা আমার ষ্টীলের আলমিরার ড্রয়ারে থাকা নগদ ২ লাখ টাকা, মো. রাহুল ও ফরহাদ ষ্টীলের আলমিরার অপর ড্রয়ারে থাকা ৩ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে। আমরা চিৎকার করলে আসামীরা আমাদেরকে হত্যার হুমকি দিয়ে বসত বিল্ডিংয়ের মূল ২টি গেইটের দরজায় বাহির থেকে তালা লাগিয়ে বন্ধ করে দেয়। পরবর্তীতে আমি ৯৯৯ নম্বরে পুনরায় কল করলে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ এসে মূল গেইটের ১টি দরজার তালা খুললে আমরা বাসা থেকে বাহির হইতে পারি। ঘটনা শুনে পুলিশ চলে যায় এবং আসামীরা আড়ালে থেকে আমাদের পর্যবেক্ষণ করতে থাকে। পরদিন সকালে আমি আমার গোয়াল ঘর থেকে গরু নিয়ে বের হলে আমার গেইটের সামনে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাথাড়ী কিল, ঘুুষি, লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। আমার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে আসামীরা পালিয়ে যায়। পরে আমি নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। (যার রেজিঃ নং-২৫২১/০৫, তারিখ-২২/০৪/২০২১ইং)। উক্ত বিষয়ে আমি এজাহার দিলে অফিসার ইনচার্জ বেগমগঞ্জ থানার মামলা নং-৩৭/২১২, তারিখ-২২/০৪/২০২১ইং রুজু করেন। এতে আসামীরা আরো ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজনকে হয়রানী করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র শুরু করে। এর অংশ হিসেবে আমার বাড়ি থেকে ৫কি.মি. উত্তর পশ্চিমে চন্দ্রগঞ্জ বাজারে আসামী হামজা মোটরসাইকেল এক্সিডেন্ট করে আহত হয়। এই এক্সিডেন্টকে সে মারামারির ঘটনা উল্লেখ করে তার মা আমেনা বেগমকে বাদী হয়ে আমাকে আমার মেয়ে রতœা বেগম ও আমার স্ত্রী রাহেলা বেগম সহ তিনজনকে আসামী করে থানায় এজাহার দিলে অফিসার ইনচার্জ ঘটনার বিষয়ে তদন্ত না করিয়া মিথ্যা মামলাটি রেকর্ড করেন। যা বেগমগঞ্জ থানার মামলা নং-৪৮/২২৩, তারিখ-২৭/০৪/২০২১ইং রুজু করেন। প্রকৃত পক্ষে আসামীদের দায়ের করা মামলার ঘটনা ২৫ এপ্রিল বিকেল ৫টার সময় চন্দ্রগঞ্জ পূর্ব বাজারে হামজা মোটর সাইকেল এক্সিডেন্ট ছাড়া কোন মারামারির ঘটনা ঘটে নাই বলে স্থানীয়রা জানায়। কারণ উক্ত চন্দ্রগঞ্জ বাজারের হাজার হাজার মানুষের যাতায়াত, কেউ বিবাদীগণের মামলার ঘটনার তারিখ ও সময়ে মারামারির কোন ঘটনা ঘটে বলে জানায়। তাদের দায়ের করা মিথ্যা মামলাটি সঠিকভাবে তদন্ত করলে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন হবে। আমার দায়ের করা মামলার প্রকৃত সন্ত্রাসী, নারী নির্যাতনকারী, লুটতরাজ, দাঙ্গা-হাঙ্গামাকারী আসামীগণ পলাতক থেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমাকে ও আমার পরিবারের লোকজন হয়রানী সহ আর্থিকভাবে ক্ষতিসাধন করতে বেগমগঞ্জ থানার মামলা নং-৪৮/২২৩, তারিখ-২৭/০৪/২০২১ইং মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এ অবস্থায় আসামীদের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় বেগমগঞ্জ থানা পুলিশ এসআই/ফিরোজ আহাম্মদ বিপি-৮৬০৬১১১৮৪৫ আমাদেরকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন। গত ২ মে তারিখে আমাকে পুলিশ উক্ত মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে। পরে আমি বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে ১৭ মে তারিখে জামিন লাভ করি। এসব বিষয়ে আমি নোয়াখালী পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ জমা দিই। যার স্মারক নং- ১৯৭৭/২য়, তারিখ ০১/০৫/২০২১। পুলিশ সুপার তদন্তের জন্য বেগমগঞ্জ সার্কেলকে তদন্তের দায়িত্ব দেন। কিন্তু সার্কেল অফিসার তদন্তের বিষয়টি তার পাশে বসা থাকা জনৈক ফারুককে দেন। সেই ফারুক আমাকে গত ২০ মে দুইবার ফোন করে ৫ হাজার টাকা দাবি করে। পরে আমার তদন্তপত্রটি নিয়ে আমার বাড়িতে আসে দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় ফারুক বিবাদীদের বাড়ি গিয়েও টাকা দাবি কওে বলে জানতে পারি। খোঁজ নিয়ে জানতে জনৈক ফারুক সার্কেল অফিসের যোগসাজশে তদন্তের নামে মামলার বাদী-বিবাদীদের নিকট চাঁদাবাজি ও হয়রানি করে থাকে। এ অবস্থায় বর্তমানে আমি ও আমার পরিবারের লোকজন আসামীদের ভয়ে পথে-ঘাটে চলাচল সহ বসত বাড়িতে বসবাস করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই মিথ্যা মামলার দায় হইতে মুক্তি, পুলিশি হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতি সাধন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ন্যায়বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *