শিবপুর দরবার শরীফে পবিত্র বদর দিবস উপলক্ষে ইফতার,জিকির ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত

রাসেদ বিল্লাহ চিশতীঃ

নোয়াখালী সদর উপজেলার শিবপুর দরবার শরীফে পবিত্র বদর দিবস উপলক্ষে ইফতার,জিকির ও মিলাদ মাহফিল মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

৩০ এপ্রিল ২০২১ইং, জুমাবার নোয়াখালী শিবপুর দরবার শরীফে ১৭ ই রমজান পবিত্র বদর দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ইফতার ও মিলাদ মাহফিলে অনুষ্ঠানের শুরুতে ইফতার পরিবেশনের পূর্ব মূহুর্তে পবিত্র বদর দিবসের আলোচনা শুরু হয়। আলোচনা পেশ করেন শিবপুর দরবার শরীফ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে সম্মানিত খতীব মাওলানা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আল কাদেরী সিদ্দিকী সাহেব।

পবিত্র বদর দিবসের আলোচনা ও জিকির, দুরুদ শরিফ, মিলাদ,কেয়াম,আখেরি মুনাজাতে নবি ওলি প্রেমিক ভক্তরা মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় অংশ গ্রহণ করছেন। আগত ভক্ত জায়েরিনদের মাঝে ইফতার বিতরণ কার্যক্রম শেষে যৌথ ভাবে আগত ভক্ত জায়েরিনগন ও অতিথিবৃন্দ সম্মিলিতভাবে ইফতার পরিবেশন করেন।

মাগরিব নামাজ আদায় শেষে শিবপুর দরবার শরীফের মহান প্রানপুরুষ ওলিয়ে কামেল, সুলতানুল আউলিয়া হযরত শাহ সূফী সৈয়দ আবদুল আজিজ হক শিবপুরি কেবলা (রহঃ)’র পবিত্র মাজার শরীফে পবিত্র বদর দিবস উপলক্ষে জিকির,দুরুদ শরিফ, মিলাদ,কেয়াম ও আখেরি মুনাজাত পরিচালনা করেন আওলাদে রাসুল (দঃ) শামপুর পদুয়া দায়রা শরিফে প্রতিনিধি মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম চিশতী সাহেব। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী…
সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সাংবাদিক রাসেদ বিল্লাহ চিশতী।

শাহ আবদুল আজিজ হক শিবপুরি (রঃ) সুন্নিয়া মাদ্রাসার কুতুব খানায় পবিত্র বদর দিবসের আলোচনায় পবিত্র বদর দিবসের তাৎপর্য নিয়ে মাওলানা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আল কাদেরি বলেন, প্রায় দেড় হাজার বছর আগে হিজরি দ্বিতীয় সনে ৬২৪ খ্রিঃ ১৭ মার্চ, দ্বিতীয় হিজরীর ১৭ ই রমজান শুক্রবার মদিনা শহর থেকে ৮০ মাইল দক্ষিণে বদর প্রান্তে ঐতিহাসিক এ যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিলো। মদিনায় ইসলামের গণজাগরণ দেখে কাফিররা প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে পবিত্র রমজান মাসে এ যুদ্ধে লিপ্ত হয়। বিশ্বাসী ও অবিশ্বাসীদের লড়াই ছিলো বদরযুদ্ধ। বদরের যুদ্ধ শুরুর আগে আমাদের প্রিয় নবি (সা.) দোয়া করেছিলেন, হে আল্লাহ! তুমি যদি চাও দুনিয়াতে তোমার ইবাদত করার কেউ না থাকুক, তাহলে এই ক্ষুদ্র দলটিকে নিশ্চিহ্ন হতে দাও। আল্লাহতায়ালা রাসূলে কারিম (সা.) এর দোয়া কবুল করেছিলেন। কুরাইশদের অহমিকা ও দম্ভ ধ্বংস করে দিয়েছিলেন।

শিবপুর দরবার শরীফ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সে সম্মানিত খতীব মাওলানা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান আল কাদেরী সিদ্দিকী সাহেব আরও বলেন, তাওহিদ-একত্ববাদের বার্তাবাহী প্রিয় নবি হজরত মুহাম্মদ (সা.) ইসলামের শত্রুর বিশাল সৈন্য সামন্তের মোকাবিলায় ছিলেন মাত্র ৩১৩ জন নিরস্ত্র সাহাবি। অপরপক্ষে অবিশ্বাসীদের নেতা আবু জেহেলের নেতৃত্বে এক হাজার প্রশিক্ষিত সৈন্যের সুসজ্জিত বাহিনী। এ যুদ্ধে মানুষের ধারণাপ্রসূত সব রকমের চিন্তা ও উপলব্ধির বাইরে গিয়ে আল্লাহতায়ালা অস্ত্র-শস্ত্রহীন ইমানদারদের অতিক্ষুদ্র দলটিকে বিজয় দান করেন। সেদিন বদরের প্রান্তরে ইমান ও কুফর, ন্যায় ও অন্যায়ের এক অন্যরকম ইতিহাস রচিত হয়। যা যুগ যুগ ধরে আল্লাহ বিশ্বাসী মুসলমানদের জন্য প্রেরণার উৎস হয়ে আছে। পৃথিবীর যে প্রান্তে যখনই মুসলমানরা অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছেন তারা সংখ্যায় কম হলেও আল্লাহ তাদের বিজয় দান করেছেন। বদর যুদ্ধে মুসলমানদের বিজয় এবং কাাফিরদের শোচনীয় পরাজয় হয়েছে।

আখেরী মুনাজাতে বৈশ্বিক মহামারি করোনা ভাইরাস থেকে দেশ ও জাতির মুক্তির জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং আমাদের বাংলাদেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যান কামনা করেও দোয়া করা হয়েছে। পাশাপাশি করোনা সংক্রমণে মৃতদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়েছে। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *