1. admin@bangladeshshomachar.com : admin :
পথশিশুদের জীবন এখন আরও কঠিন - দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার
মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ০১:৪৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
মাঝারি ও ছোটরা এখনো দুর্দিনে অক্লান্ত কর্মবীর বিপিইএমসির   সিইও প্রকৌশলী সেলিম ভূঁইয়া উখি্যায় ১৪ হাজার ইয়াবাসহ এক রােহিঙ্গা্কে আটক করেছে র‍্যাব ১৮ বছরের উর্ধ্বে কেউ টিকা থেকে বাদ পড়বে না-মেয়র নগরীতে মোবাইল কোর্ট অভিযানে ১৫৪ মামলায় ৭৪ হাজার টাকা জরিমানা কর্ণফুলীতে ১ অপহৃতকে উদ্ধার ও ২ অপহরণকারীকে আটক করেছে র‍্যাব করোনা দুর্যোগে মানুষের পাশে থাকা পরম এবাদত- আ জ ম নাছির উদ্দীন গোপন কোড ওয়ার্ড ‘গরুর গোশত”হাড্ডি”বিচি’বললেই মিলে ইয়াবা! মোড়েলগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ৮ জনকে অর্থদণ্ড করোনা থেকে সুস্হ্য হয়ে ডেঙ্গু জ্বরে মৃত্যু বরণ করলেন ইঞ্জিনিয়ার ওয়াহিদুর রহমান হিরক ৮ মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা নারী চুরি করতে গিয়ে ধরা;চুরিতে করেছেন সেঞ্চুরি!

পথশিশুদের জীবন এখন আরও কঠিন

Reporter Name
  • প্রকাশিত : সোমবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২১
  • ৬ জন দেখেছেন
Spread this news to

সংবাদদাতাগাজীপুর

এই শিশুদের কেউ ফুল বেচে, কেউ বেলুন বেচে চলত এত দিন। লকডাউনে তাদের খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। আশপাশে কোনো গাড়ি থামলেও সাহায্যের আশায় ছুটে যাচ্ছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় রাজধানীর উত্তরার জমজম টাওয়ারের সামনে থেকে তোলা
এই শিশুদের কেউ ফুল বেচে, কেউ বেলুন বেচে চলত এত দিন। লকডাউনে তাদের খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। আশপাশে কোনো গাড়ি থামলেও সাহায্যের আশায় ছুটে যাচ্ছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় রাজধানীর উত্তরার জমজম টাওয়ারের সামনে থেকে তোলা

শুক্রবার রাত ১১টা। রাজধানীর উত্তরার সোনারগাঁ জনপদ সড়কসংলগ্ন ‘জমজম টাওয়ারের’ সামনে জনা দশেক শিশুর জটলা। পরনে অপরিচ্ছন্ন পোশাক, কারও খালি পা। এদের প্রায় সবার বয়স ৫ থেকে ১২–এর মধ্যে। আশপাশে কোনো গাড়ি থামলেই শিশুরা ছুটে আসছে ত্রাণ বা সাহায্যের আশায়।

এদের মধ্যেই পাওয়া গেল স্বপ্না ও মিমকে। এরা দুই বোন। বাড়ি গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায়। বাবা নেই। মা নুরজাহান বেগম মানুষের বাসায় কাজ করেন। সংসারের খরচ জোগাতে রাস্তায় রাস্তায় বেলুন বিক্রি করে তারা দুজন। যা আয় হয় তা দিয়েই কোনোরকম চলে তিন বোন ও এক ভাইয়ের সংসার। বেলুন বিক্রি করতে কখনো কখনো চলে আসে রাজধানীর উত্তরায়।

গত বুধবার সকালে বেলুন আর কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে চলে আসে উত্তরার জমজম টাওয়ার এলাকায়। কিন্তু সেদিনের উত্তরার পথেঘাটে কোনো মানুষ নেই। বেলুনও বিক্রি হয় না। এভাবে চলতে চলতে সকাল গড়িয়ে দুপুর। তাদের বেলুন বিক্রি হয় না। এরপর বাধ্য হয়েই ভিক্ষা শুরু করে দুই শিশু। কখনো মসজিদের সামনে, কখনো বাজার, কখনোবা ছোটখাটো জনসমাগমে। এক-দুই করে রাত ১১টা পর্যন্ত আয় ৬৭টি টাকা। এরপরের দুই দিন আর বাসায় ফেরেনি তারা। ফুটপাতে, বিপণিবিতানের সিঁড়িতেই কেটে যায় তাদের রাতগুলো।বিজ্ঞাপন

স্বপ্নার সরল ভাষ্য, ‘আমরা ভিক্ষা করি না ভাইয়া। রাস্তায় বেলুন বিক্রি করি। কিন্তু গত দুই দিন যে কী হইছে, বুঝি না। রাস্তাঘাটে লোকজন নাই। বেলুন বিক্রি করুম কার ধারে। কিন্তু বাসায় টাকা না নিয়া গেলে মা বকব। তাই আমার ছোট বোন (মিম) মানুষের কাছে হাত পাততে শুরু করছে। কী করমু, টাকা না পাইলে তো না খাইয়া থাকতে হইব।’ স্বপ্না বলে, ‘মানুষের বাসায় কাজ করে মা যে টাকা পায়, তাতে সংসার চলে না। তাই আমরা বেলুন বিক্রি করি। বেলুন বিক্রি করতে করতে উত্তরা চইলা আসি। প্রতিদিনই মাকে কিছু না কিছু দিতে হয়।’

কথা বলতে বলতেই ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়ে ছোট্ট মিম। টাওয়ারের সামনে ঘুমানোর জন্য বিছানা পাতে বড় বোন স্বপ্নাও। সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপত্তাকর্মী এসে চোখ রাঙায়। বাধ্য হয়ে মিমকে নিয়ে স্বপ্না চলে যায় সড়কের উল্টো পাশে টপটেন ভবনের সামনে। সেখানেও এক নিরাপত্তাকর্মী তাদের উঠিয়ে দেয়। এরপর বোনকে নিয়ে স্বপ্না আশ্রয় নেয় সড়ক বিভাজকের মাঝখানে। সেখানেই বিছানা পেতে শুয়ে পড়ে তারা।

এই শিশুদের কেউ ফুল বেচে, কেউ বেলুন বেচে চলত এত দিন। লকডাউনে তাদের খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। আশপাশে কোনো গাড়ি থামলেও সাহায্যের আশায় ছুটে যাচ্ছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় রাজধানীর উত্তরার জমজম টাওয়ারের সামনে থেকে তোলা
এই শিশুদের কেউ ফুল বেচে, কেউ বেলুন বেচে চলত এত দিন। লকডাউনে তাদের খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে। আশপাশে কোনো গাড়ি থামলেও সাহায্যের আশায় ছুটে যাচ্ছে। শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টায় রাজধানীর উত্তরার জমজম টাওয়ারের সামনে থেকে তোলা

তোমরা বাড়ি গেলে না কেন, জানতে চাইলে স্বপ্নার জবাব, ‘কাজ শেষ করতে রাত হইয়া গেছে। মা আইসা নিয়া যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু মা আসে নাই। আর গাড়ি না চলায় আমরাও যাইতে পারছি না। এ কারণে রাস্তায়ই থাকতাছি।’

এখানেই পাওয়া গেল দুই ভাই মারুফ ও ফারুককে। মা নেই। বাবা থেকেও না থাকার মতো। তারা দুজন দাদি সাবিয়া বেগমের সঙ্গে থাকে নগরের ফুলবাড়িয়া এলাকায়। তারা দুজনও কখনো ফুল, কখনোবা বেলুন বিক্রি করে। দিন শেষে যা আয় হয়, তা তুলে দেয় দাদির হাতে। তাতে কোনোরকম টেনেটুনে চলে যায় তাদের সংসার। কিন্তু গত তিন দিনের লকডাউনে তাদের সে আয়ে ভাটা পড়েছে। তাই তারাও সাহায্যের আশায় ঘুরছিল রাস্তায় রাস্তায়। তারা জানায়, তারা প্রথম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছে। এরপর তাদের মা মারা যায়। বাবা বিয়ে করে আলাদা সংসার শুরু করে। এরপর থেকে তারা দুজন থাকে দাদির সঙ্গে। বেলুন বা ফুল বিক্রি করে দৈনিক দুই শ থেকে আড়াই শ টাকা পাওয়া যায়। সেই টাকা তুলে দেয় দাদির হাতে। তাতে কোনোরকম চলে তাদের সংসার। এর মধ্যে কত দিন ধরে বেলুন বিক্রি বন্ধ থাকায় বেকায়দায় পড়েছে তারা।

 ফারুক বলে, ‘বেলুন আনি টঙ্গী বাজার থেইকা। কিন্তু এখন বাজার বন্ধ, বেলুন আনা যায় না, তাই বিক্রিও করতে পারি না। এদিকে মানুষের বাসায় দাদির কামও বন্ধ। ঘরে চাউল-ডাউল নাই। সেই জইন্য সকালবেলা এইহানে আয়া বইছি। এর মাঝে কয়েকটা ভাই আইসা দুপুরে খাবার দিয়া গেছে। কিন্তু কেউ গেলবারের মতো চাউল-ডাউল দেয় নাই।’
এমন আরও গল্প শোনা গেল ইয়ামিন, শিপন, রাসেল, মরিয়ম, মুন্নি, মুক্তা ও রাবেয়ার কাছ থেকেও। তাদের কারও বাবা নেই, কারওবা মা। সবাই জীবিকার তাগিদে বা সংসারে হাল ধরতে নেমেছে রাস্তায়। কখনো বেলুন, কখনো ফুল বা খেলনা বিক্রি করে সংসারে দেয় তারা। কিন্তু লকডাউনে তাদের সবার সেই আয়ে ভাটা পড়েছে। আছে নিরাপত্তাঝুঁকি, করোনার ঝুঁকিও। এই সবকিছু উপেক্ষা করেই এরা রাস্তায় থাকছে সাহায্যের আশায়। কোনো গাড়ি বা কাউকে থামতে দেখলে ছুটে যাচ্ছে। খাবার, ত্রাণ বা অর্থ সাহায্যের জন্য কাকুতি–মিনতি করছে।

তাদের সঙ্গে কথা বলতে বলতে রাত ১২টা। তারা তখনো জমজম টাওয়ারের সামনে। কে, কোথায় থাকবে বা বাসায় যাবে কি না, জানতে চাইলে এই শিশুরা জানায়, তারা রাস্তাতেই থাকবে। দিন শেষে তাদের কারও হাতে একটি টাকাও নেই। খালি হাতে বাসায় ফেরা যাবে না। আর কেউ কেউ যানবাহন বা ভাড়ার টাকা না থাকায় রাস্তায় ঘুমানোর কথা ভাবছিল।

এর মধ্যে বেশ একটু ভাবগম্ভীর রাসেল বলে, ঘর ভাড়া দুই হাজার টাকা। মার একার আয়ে তা হয় না। তাই প্রতিদিনই মাকে কিছু না কিছু দিতে হয়। কিন্তু কোনো কারণে টাকা দিতে না পারলে মা মন খারাপ করে, চিন্তায় পড়ে যায়। তাই বাড়ি যাওয়ার সাহস পাচ্ছে না সে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো সংবাদ

About Us

সম্পাদক ও প্রকাশকঃ ড. খান আসাদুজ্জামান
ঠিকানাঃ এম এস প্লাজা (৮তলা) ২৮সি/২ টয়েনবি সার্কুলার রোড, মতিঝিল, বা/এ, ঢাকা-১০০০
নিউজ সেকশনঃ ০১৬৪১৪২৮৬৭০
বিজ্ঞাপনঃ ০১৯৯৬৩০৩০৭১
মফস্বলঃ ০১৭১৫২২৮৩২২
ই-মেইলঃ bangladeshshomachar@gmail.com
ওয়েবসাইটঃ www.bangladeshshomachar.com
ই-পেপার: www.ebangladeshshomachar.com
© All rights reserved © 2021 The Daily Bangladesh Shomachar
প্রযুক্তি সহায়তায় একাতন্ময় হোস্ট বিডি